নিজে নিজে ক্যামেরার বোতাম টিপে একগাল হেসে সেলফি তুলেছিল সে। নারুতো নামে ইন্দোনেশিয়ার সেই বাঁনর আজ পার্সন অফ দ্য ইয়ার।

তাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে পশু অধিকার সংস্থা পেটা। তারা বলেছে, কালো রঙের এই বাঁদর কোনও বস্তু নয়, সে জীব। তাই এই সম্মান সে পেতেই পারে।

২০১১-য় নারুতো ইংল্যান্ডের ফটোগ্রাফার ডেভিড স্টেলারের ক্যামেরার লেন্স নিজের দিকে ঘুরিয়ে ক্যামেরার বোতাম টিপে দেয়। উঠে যায় তার নিখুঁত ছবি।

বাঁনরের তোলা ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু ডেভিড বলেন, তার ক্যামেরায় তোলা হয়েছে ছবি, তাই কপিরাইটের অধিকার তারই। উল্টোদিকে পেটাও দাবি করে, ৬ বছরের নারুতোকেই ওই ছবির স্রষ্টা ও মালিক ঘোষণা করতে হবে। সেই প্রথম কোনও পশুকে কারও সম্পত্তি বলে ঘোষণা করার বদলে তাকেই সম্পত্তির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে দায়ের হয় মামলা।

আন্তর্জাতিক এই মামলার রায় বেরিয়েছে সেপ্টেম্বরে। আদালত বলেছে, ডেভিড ওই সেলফি ব্যবহার করে বা তা বিক্রি করে আয় করা অর্থের ২৫ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার ওই প্রজাতির বাঁনরদের সংরক্ষণে ব্যয় করবেন।

এই বাঁনরের সেলফি নিয়ে দুনিয়া জুড়ে হইচই
ফটোগ্রাফার ডেভিড স্লটার ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলেন বন্যপ্রাণীদের ছবি তুলতে। সেখানে তিনি ছবি তুলতে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে ভুলেই যান তার আরও একটি ক্যামেরার কথা। ডেভিডের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে এক সুন্দরী ম্যাকাক বাঁদর ক্যামেরাটি নিয়ে খেলতে শুরু করে। একগাদা ছবিও তোলে বাঁনরটি। তার বেশির ভাগ ঝাপসা হলেও নিজের ঝাঁ চকচকে সেলফি তুলতে ভুল করেনি বাঁনরটি। কিন্তু এই সেলফির কপি রাইট কার? ডেভিডের না বাঁনরটির? সেই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

উইকিপিডিয়ার প্রকাশক উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন তাদের ওয়েবসাইটে এই অভিনব সেলফি প্রকাশ করার পরেই ছবিটি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এখনও পর্যন্ত মানুষ ব্যাতীত অন্যকোনও প্রাণীর সেলফি এই প্রথম। ফলে স্বভাবতই এই নিয়ে উৎসাহ চরমে পৌঁছায়। কিন্তু উইকিমিডিয়ার উপর বেজায় চটেছেন ডেভিড। তাঁর দাবি এই ছবির কপিরাইট তার। উইকিমিডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে পৃথিবীর একমাত্র বাঁনরের সেলফি সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।

কিন্তু ডেভিডের দাবি মানতে নারাজ উইকিমিডিয়া। তাদের বক্তব্য ছবিটি মোটেও তিনি তোলেননি। অতএব এই ছবির উপর তার কোনো অধিকারই নেই।

কপিরাইট আইনে কোনো ছবির মালিকানা তার উপর বর্তায় যিনি ক্যামেরার শাটার ক্লিক করেছেন। এক্ষেত্রে কিন্তু কাজটি করেছে ম্যাকাক বাঁনরটি স্বয়ং। অতএব সে যতদিন না এসে কপিরাইট দাবি করছে ততদিন সম্ভবত নিশ্চিন্তে থাকতে পারে উইকিমিডিয়া।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + ten =