পুঁজিবাজারে স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয় এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিপর্যয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দু’জন সিনিয়র সংসদ সদস্য। দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ স্টক এক্সচেঞ্জে ষড়যন্ত্র বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে দলটির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বিপর্যয়ের জন্য ডিসেম্বর নয়, এখনই অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করেছেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফ্লোর নিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শেয়ার বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে গেছে। সূচক নেমে গেছে তলানিতে।

প্রতিটি শেয়ার নিম্নমুখী। কি দুর্ভাগ্য এই মুহূর্তে স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে কোন কোম্পানি যদি ২৫ শতাংশ শেয়ার তুলে নেয় তাহলে মহা বিপর্যয় নেমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নির্দেশ দিন, যেন এভাবে শেয়ার বিক্রি করতে না পারে। এটা হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়ে যাবে। অন্যদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ফ্লোর নিয়ে বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। লুটপাটের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আজ অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অর্থনীতির রক্তক্ষরণের কারণে জাতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পানামা পেপার্স, প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্থনীতিকে দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন রক্তক্ষরণ কন্টিনিউ করবেন? আজকে এখনই পদত্যাগ করুন। মানুষকে বাঁচান, দেশ ও জাতিকে বাঁচান। ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার কি? আপনি আজকে এখনই অবসরে চলে যান। গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচান, আমাদের সবাইকে বাঁচান।
প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যারা টাকা পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্যারাডাইস পেপার ও পানামা পেপারে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জাতি আপনাকে সাধুবাদ জানাবে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন,অর্থমন্ত্রী বলেছেন অর্থনীতির যে অবস্থা, সরকারি ব্যাংকের যে অবস্থা এর জন্য নাকি সরকার দায়ী? সরকার দায়ী মানে কি সরকার প্রধান দায়ী? সরকারপ্রধান তো অর্থমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রণালয়ে। তাই সেই দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। অর্থ পাচারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল। পানামা পেপারে অনেকের নাম আসলো কিন্তু কোন ব্যবস্থা সরকার বা অর্থমন্ত্রী নিলেন না। জিয়াউদ্দিন বাবলু এসময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পানামা পেপার কেলেঙ্কারির ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের ২৭ জনের নাম আসছে কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কত হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে তার কোন হিসাব দেননি। জনতা ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেন এরজন্য ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত দায়ী। কে দায়ী আমাদের জানার দরকার নেই, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? সবগুলো ব্যাংকে এখন রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কথা আছে- যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা। অর্থনীতির যক্ষ্মা হয়েছে। এর থেকে কোন রক্ষা নেই।

আরও পড়ুনঃ   কক্সবাজারে ১৫ রাষ্ট্রদূতঃ প্রত্যাবাসনের জন্য কমিটি হচ্ছে কাল

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 + eighteen =