আক্রমণভাগে নেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমা। রক্ষণে মার্সেলো, আর মিডফিল্ডেও নেই টনি ক্রুস। ইনজুরি আর নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত, কিন্তু তারপরও গোল করা ভোলেনি জিনেদিন জিদানের দল। গত বছরের এপ্রিল থেকে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়া মানে-ই তো প্রতিপক্ষের গোল হজম!

রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ অ্যানোয়েতায় গত ৩০ এপ্রিল গ্যারেথ বেলের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। মাঝের এ সময়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জিদানের গোল করেছে টানা ৭২ ম্যাচ! অবাক হওয়ার কিছু নেই। নিশ্চয়-ই ভাবছেন, টানা সর্বোচ্চ কত ম্যাচে গোল করতে পেরেছে কোনো দল?

রেকর্ডটা এত দিন দখলে রেখেছিল পেলের সান্তোস। ‘কালোমানিক’কে সঙ্গে নিয়ে ১৯৬৩ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি গোল করেছিল টানা ৭৩ ম্যাচে। মানে, আর মাত্র এক ম্যাচে গোল করলেই সান্তোসের সেই বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসাত রিয়াল। রোনালদো-বেনজেমাবিহীন রিয়ালকে নিয়ে সেই রেকর্ড ছুঁলেন মাত্র বিশ বছরের স্ট্রাইকার বোরা মেরোয়াল। সেটাও আবার, সেই রিয়াল সোসিয়েদাদেরই মাঠ অ্যানোয়েতায়! টানা ৭৩ ম্যাচে গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার সঙ্গে এ-তো চক্রপূরণও!

চলতি লা লিগায় প্রথম ম্যাচ জিতলেও শেষ দুই ম্যাচে ড্র করেছে রিয়াল। অ্যানোয়েতায় রিয়াল সোসিয়েদাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোচ জিদানের এ কাঁটা ঘায়ে রোনালদো, ক্রুস ও মার্সেলো ও বেনজেমার অনুপস্থিতি ছিল নুনের ছিটার মতো।

নিষেধাজ্ঞার জন্য দলের বাইরে রোনালদো ও মার্সেলো। চোট পেয়েছেন বেনজেমা ও ক্রুস। আক্রমণভাগে মার্কো এসেনসিও আর গ্যারেথ বেল-ই ছিলেন জিদানের ভরসা। সঙ্গে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেরোয়াল। রিয়ালকে রেকর্ড গোলটি এনে দিতে স্প্যানিশ স্ট্রাইকারটির সময় লেগেছে মাত্র ১৯ মিনিট।

সোসিয়েদাদের বক্সের বাইরে জটলার ভেতর থেকে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সার্জি রামোস। রিয়াল ডিফেন্ডার শট নিতে না পারলেও পেছনে থাকা মেরোয়ালের শট সোসিয়েদাদের জাল খুঁজে পায়।রিয়ালের জার্সিতে এটাই তাঁর প্রথম গোল।

নয় মিনিট পর-ই সমতায় ফিরেছে সোসিয়েদাদ। ফরাসি লেফট ব্যাক কেভিন রদ্রিগেজের ভলি রিয়ালের জাল খুঁজে পাওয়ার নেপথ্যে অতিথি দলটির গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের অবদান কম নয়। রদ্রিগেজের শট জাল ছুঁয়েছে নাভাসের গ্লাভসের নিচ দিয়ে! তবে ম্যাচ শেষে রদ্রিগেজ নিশ্চয়ই খুশি হতে পারেননি। ৩৬ মিনিটে রিয়াল এগিয়ে গেছে তাঁর-ই ‘আত্মঘাতী’ গোলে!

৩৫ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে রদ্রিগেজের শট রিয়ালের ক্রসবারে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বল পেয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ইসকো-লুকা মডরিচরা। ডান প্রান্ত থেকে মেরোয়ালের ক্রস সেই রদ্রিগেজের-ই পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় জিদানের দল।

এখান থেকে ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-১ করেন বেল। দূরপাল্লার পাস পেয়ে চিতার গতিতে ছুটতে থাকা ওয়েলশ উইঙ্গারকে থামাতে পারেননি রদ্রিগেজ। বেলের ‘চিপ’ সোসিয়েদাদ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আশ্রয় নেয় জালে। ৪ ম্যাচ শেষে টেবিলে চতুর্থ রিয়ালের সংগ্রহ দাঁড়াল ৮ পয়েন্ট। তাঁদের সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।

বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে প্রথমে বার্সেলোনার গড়া টানা ৪৪ ম্যাচে গোলের ‘স্প্যানিশ রেকর্ড ভেঙেছে রিয়াল। এরপর বায়ার্ন মিউনিখের গড়া টানা ৬১ ম্যাচে গোলের ‘ইউরোপিয়ান রেকর্ড’ও ভেঙেছে জিদানের দল। তবে সান্তোসের সঙ্গে টানা ৭৩ ম্যাচে গোলের রেকর্ড ভাগ করে নিলেও, ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি এ সময় বেশি গোল করেছে। টানা ৭৩ ম্যাচে সান্তোসের গোলসংখ্যা ছিল ২৪৫। সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের পর টানা ৭৩ ম্যাচে রিয়ালের গোলসংখ্যা কাটায় কাটায় ২০০। এর মধ্যে ৪৯ গোল রোনালদোর। সান্তোসের ২৪৫ গোলের ৮৫টি ছিল পেলের! সূত্র: মার্কা, বিবিসি

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 − 6 =