ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকার করলেন বাঁহাতি পেসার কাজী অনিক। নিউজিল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার গতি নজর কেড়েছিল সবার। ভারতের বিপক্ষে তার করা ১৬০ কিমি বেগের বোলিং হতবাক করেছিল ক্রিকেটবিশ্বকে। সেই তরুণ পেসার ডিপিএলে খেলছেন মোহামেডানের হয়ে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে লিগ এবং ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন তিনি।

রোববার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন অনিক। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। লিগেও এ পর্যন্ত সেরা বোলিং ফিগার এটি।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৩১ রান করে রূপগঞ্জ। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় মোহামেডান। শুরুতে রূপগঞ্জকে ৪৮ রানের জুটি এনে দেন আব্দুল মজিদ ও সালাউদ্দিন পাপ্পু। ১৫তম ওভারে এ জুটি ভাঙেন অনিক। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২২ রান করা পাপ্পু। এক ওভার পরই অনিকের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন পাকিস্তানের সামি আসলাম (১)। তৃতীয় উইকেটে নাঈম ও মজিদ ৮০ রানের জুটি গড়েন। পরে ১ রানের ব্যবধানে দুই ব্যাটসম্যান আউট হলে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে তারা।

স্পিনার এনামুল হক জোড়া আঘাত করেন রূপগঞ্জ শিবিরে। ৩৬ রান করা নাঈম ইসলাম বোল্ড হন অফ স্পিনারের বলে। সর্বোচ্চ ৭০ রান করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া মজিদ ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ১১৫ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মজিদ। পঞ্চম উইকেটে তুষার ইমরান ও অভিষেক মিত্রের ৮২ রানের সুবাদে ২৩১ রানের পুঁজি পায় রূপগঞ্জ।

জবাবে মোহামেডানের হয়ে ৪৮ রান করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৩৭ বলে ৩০ রান করা রনি তালুকদারকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আসিফ হাসান। পাকিস্তানের ওপেনার সালমান বাট এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হন ২১ রানে। চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন শামসুর রহমান শুভ ও রকিবুল হাসান। এ জুটি ৯৮ থেকে দলকে ১২১ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। মোহামেডানের অধিনায়ক শুভ বাঁহাতি স্পিনারের বিপরীতে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৩৪ রানে। পরের ওভারে রুবেল নেন আমিনুল ইসলামের (২) উইকেট। তাতেই শেষ মোহামেডানের পাঁচ উইকেট।

আরও পড়ুনঃ   বিসিবিতে চলছে তামিমের শুনানি

বল হাতে ৫ উইকেট পাওয়া অনিক এক ছক্কায় আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ৪৪তম ওভারে দ্বিতীয় বলে রুবেলকে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন অনিক। ৩২ রান করেন রকিবুল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদতকে আউট করে তৃতীয় উইকেটের স্বাদ পান শহীদ। তাতেই জয় নিশ্চিত হয়ে রূপগঞ্জের। শেষ দিকে ২৩ বলে ১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ মোহামেডানের জয়ের স্বপ্ন।

ঘণ্টায় ১৬০ কিমি!

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন অনেক তরুণ ক্রিকেটার। এর মধ্যে লাইমলাইটে ছিলেন বাংলাদেশের আফিফ হোসেন। ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দুর্দান্ত করেছেন তিনি। ম্যাচজয়ের নায়কও ছিলেন কয়েকবার। তিনি ছাড়াও নজর কেড়েছিলেন আরো একজন। তিনি কাজী অনিক। ১৮ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি তরুণ পেসারের গতি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

গত বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেই (বিপিএল) অভিষেক হয় অনিকের। রাজশাহী কিংসের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে চার উইকেট শিকার করেন তিনি।

এরপর জানুয়ারিতে যুব বিশ্বকাপেও জ্বলে উঠেন এই তরুণ। টুর্নামেন্টে নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪৫ কিমি বেগে বল করে কয়েকজন বোলরা চমকে দিয়েছেন ক্রিকেটবিশ্বকে। কিন্তু অনিক ছিলেন এদের মধ্যে আলাদা। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে অনেকেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেয়েছেন তার বোলিং দেখে।

ভারতীয় অধিনায়ক পৃথ্বী শ-কে যে ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করে অনিক ফেরত পাঠিয়েছিলেন সাজঘরে, সেই ডেলিভারি টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আলোচনার শিরোনামে।

স্পিডোমিটার বলেছিল, পৃথ্বী শ যে ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান, সেই বলের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিমি! কোনো সন্দেহ নেই, বাঁ-হাতি পেসার অনিকের করা ওই ডেলিভারি প্রত্যেক বোলারের কাছেই স্বপ্নের!

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + 2 =