মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, ময়মনসিংহর থেকে: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় গনধর্ষণ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর উপজেলায় সহনাটি ইউনিয়নের গিধাউষা এলাকায় ঘটনার পর থেকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিক খায়রুল ইসলাম উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পেঁচাঙ্গিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। কথিত ধর্ষিতা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ঘটনার পর থেকেই ধর্ষিতাসহ তার প্রেমিক খায়রুল ইসলাম ও বন্ধু সোহেল মিয়ার কোনও খোঁজ মিলছে না। একই সঙ্গে ধর্ষকরাও গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর সহনাটি এলাকায় খালার বাড়িতে বেরাতে আসেন ওই প্রেমিকা। ওই দিন রাতেই মেয়েটি তার প্রেমিক খায়রুলের সঙ্গে দেখা করতে গোপনে ঘর থেকে বের হয়। ওই রাতে খায়রুল একই এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে রিকশাচালক সোহেল মিয়াকে নিয়ে দেখা করতে আসে প্রেমিকার সঙ্গে। এ সময় তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে কিছু বখাটে মিলে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে।

সোহেলের স্ত্রী লিপা আক্তার জানান, ওই রাতে ধর্ষণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে পুলিশ এসে বাড়িতে খোঁজখবর নিয়ে গেছে। আমি সন্তানের মা হতে যাচ্ছি। এ সময় স্বামীকে খুব প্রয়োজন। তাকে খুঁজে এনে দিন।

গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খায়রুলের সঙ্গে ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ওই তরুণীর খালার বাড়ি আমাদের গ্রামেই। তরুণীর খালার পরিবারের লোকজনও আমার কাছে এসেছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি।

গৌরীপুর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আইনজীবী আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ জানান, নির্যাতিতরা ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ। পুলিশের উচিত দ্রুত নির্যাতনের শিকার তরুণীসহ সবাইকে উদ্ধার করে প্রকৃত সত্য ঘটনা উন্মোচন করা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে সোহেল মিয়ার স্ত্রী লিপা আক্তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে আমি আমার স্বামীর কোনও খোঁজ পাচ্ছি না।’

উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রাবেয়া ইসলাম ডলি জানান, ভিকটিম উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ওই রাতে আসলে কি ঘটে ছিল তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। ঘটনার ৮দিন পরও পুলিশ এখনও নিখোঁজ ওই তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেনি। বিষয়টি খুব দুঃখজনক।

গৌরীপুর থানার (ওসি ) দেলোয়ার আহম্মদ জানান, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনার পর থেকেই কথিত ধর্ষিতাসহ প্রেমিক খায়রুল ইসলাম ও বন্ধু সোহেল মিয়ার কোনও খোঁজ মিলছে না। তাদের অভিভাবক পক্ষের কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারের পর তদন্ত করে বলা যাবে, গণধর্ষণ নাকি অন্য কিছু।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 11 =