জন্মহার বাড়াতে মরিয়া দক্ষিণ কোরিয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটির দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেম ও বিয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স চালু করেছে। আর এই কোর্স পড়তে সহপাঠীদের সঙ্গে অভিসারে যাওয়াকেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দেশটির রাজধানী সিউলের দংয়ুক ও কিউং হি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া এই কোর্সের বিষয়বস্তু হলো প্রেম, ভালোবাসা ও অভিসার। নতুন প্রজন্মকে প্রচলিত পারিবারিক জীবনে আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যেই চালু হয়েছে ‘বিয়ে ও পরিবার’ নামের এই কোর্স।

চাকরির বাজারে মন্দার পাশাপাশি আবাসন ও শিক্ষা খরচ বাড়তে থাকায় দেশটির অনেক তরুণ-তরুণী সন্তান জন্মদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বিয়ের ঘটনা কমে আসায় দেশটিতে ‘শ্যাম্পু জেনারেশন’ নামে নতুন টার্ম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

দংয়ুক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা হলেন অধ্যাপক জ্যাং জায়ে সোক। তিনি বলেন, এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের ঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া শেখানো হবে। একইসঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক ভালো রাখা যায়, তাও পড়ানো হবে তাদের।

জ্যাং জায়ে সোক আরও বলেন, কোরিয়ার জনসংখ্যা কমছে। এই মুহূর্তে বিয়ে ও অভিসার খুবই দরকার। কিন্তু কোরিয়ান তরুণরা এখন খুবই ব্যস্ত। সম্পর্ক তৈরিতে তাদের প্রবল অনাগ্রহ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস-কে তিনি বলেন, এই কোর্স পড়ার অংশ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিমাসে অন্তত তিন সহপাঠীর সঙ্গে অভিসারে যেতে হবে। এ ছাড়া হোমওয়ার্ক হিসেবে ‘সন্দেহ’ ও ‘ঝগড়া’ বিষয়ে বড়দের সঙ্গে আলাপও করতে হবে।

প্রফেসর জ্যাং মনে করেন, তত্ত্বীয় পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কারণেই তিনি কোর্সে অভিসারের মতো বিষয় বাধ্যতামূলক রেখেছেন।

এই কোর্সে সম্পর্ক শুরু এবং তা ধরে রাখার যাবতীয় বিষয় শেখানো হবে। কিউং হি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের কোর্সের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রেম ও বিয়ে’।

১৯৭৭ সালের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৬ সালে সবচেয়ে কম বিয়ের হার রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে বিয়ের হার ওই বছরে দাঁড়ায় ৫.৫। ১৯৭০ সালে যখন এই রেকর্ড রাখা শুরু হয়, তখন তা ছিল ২৯৫.১। জন্মহার বাড়াতে এ পর্যন্ত ৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

আরও পড়ুনঃ   ইবতেদায়ি শিক্ষকদের আমরণ অনশন চলছে, অসুস্থ ২২

জাহিদুল ইসলাম জন

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × two =