মাশরাফির ওভাবে ছুটে যাওয়া কি চোখে পড়েছিল? শোনা যায়নি, তবে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, লেখার অযোগ্য ভাষায় কী বলছিলেন অধিনায়ক। কুশল মেন্ডিসকে আউট করার পর মাশরাফি বিন মুর্তজার সে আগ্রাসী ভঙ্গিটাই এ ফাইনালের বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে। একটি শিরোপার জন্য বাংলাদেশের ক্ষুধা তো অজানা নয় কারও। সে পথে অর্ধেক কাজটা করা হয়ে গেছে। ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়া শ্রীলঙ্কা তুলেছে ২২১ রান। প্রথম কোনো ফাইনাল জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২২২ রান।

মাশরাফির ওভাবে তেড়ে যাওয়ার কারণ ছিল। বাজির ঘোড়া হিসেবে আজ শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়েছিল। গুনাতিলকাকে আউট করে তার প্রতিদানও দিয়েছেন মিরাজ। সেই মিরাজকেই কিনা রীতিমতো তুলাধোনা করলেন মেন্ডিস। একবার মিড উইকেটে ছক্কা মারছেন। পরের বলেই ফিল্ডার সেদিকে নিয়ে যেতেই আবার লং অন দিয়ে ছক্কা। এ যেন প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে মজা করা। যেখানে ফিল্ডার, তার উল্টো দিকে বল পাঠানো!
পরের ওভারেই তাই মেন্ডিসকে ফিরিয়ে মাশরাফির সে বুনো উল্লাস। সেটা ষষ্ঠ ওভারের ঘটনা। বুনো না হলেও অন্য রকম এক উল্লাস হলো ৩৬তম ওভারে। দ্বিতীয় বলেই একবার ওয়ানডেতে ৫০তম উইকেট পাওয়ার আনন্দে মেতেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তটা রিভিউতে ভুল প্রমাণিত হলো। কিন্তু মোস্তাফিজ এ নিয়ে ভাবতে রাজি হলেন না। পরের বলেই বোল্ড উপুল থারাঙ্গা। ৯৯ বলে ৫৬ রান করে আউট হলেন থারাঙ্গা। তাঁর ১১ ভাগের ১ ভাগ বল খেলেই ঠিক অর্ধেক তুলেছিলেন কুশল (৯ বলে ২৮)। মিরপুরের উইকেট কেমন, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে তাই মাথা চুলকাতেই হবে!

উইকেট কেমন ছিল, সেটা না হয় বোঝা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের বোলাররা কেমন করেছেন, সেটা বুঝিয়ে দেওয়া যাবে পরিসংখ্যান দিয়ে। ৭.৩ ওভারেই ৫০ তুলে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। সে দলটাই ১১ থেকে ৪০—এই ৩০ ওভারে তুলতে পারল মাত্র ১০৭ রান!
একদিকে মোস্তাফিজের কাটার, অন্যদিকে রুবেলের স্কিডিং বল, শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা ব্যতিব্যস্ত থাকলেন পুরোটা সময়। স্লগ ওভারে বোলিংয়ের অসাধারণ এক নিদর্শন দিয়ে রাখলেন বাংলাদেশের পেসাররা। যে দুজন ব্যাটসম্যান ঝড় তুলতে পারতেন, সেই থিসারা পেরেরা ও আসেলা গুনারত্নে আউট রুবেলের বলে।

আরও পড়ুনঃ   সাকিব না থাকায় খুশি দক্ষিণ আফ্রিকা

এর মাঝেই ৪২তম ওভারটা বাংলাদেশকে দিল বড় এক ধাক্কা। মোস্তাফিজের প্রথম বলে সামনে খেলেছিলেন চান্ডিমাল। এক্সট্রা কভার থেকে দৌড়ে আসা সাকিব আল হাসান সেটা আটকাতে নিজেকে ছুড়ে দিলেন মাঠে। কিন্তু তাঁর বাঁ হাত মাটিতে পড়েছে খুবই বেকায়দা ভঙ্গিতে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাকিবকে। পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে আজ তাই পরিবর্তন আসছেই।
বাংলাদেশের পেসারদের বিরক্তি উদ্রেক করে ঠিকই ব্যাট করে যাচ্ছিলেন দিনেশ চান্ডিমাল। ৭৪ বলে ৪৫ রান করা শ্রীলঙ্কান অধিনায়ককেও ৪৮তম ওভারে ফিরিয়েছেন রুবেল। সে ওভারে ১৬ রান নিয়ে শ্রীলঙ্কাও পাল্টা জবাব দিয়েছিল। তবে সেটা ব্যতিক্রম হয়েই থাকল। ৪৮তম ওভারে দুই শ পেরোনো শ্রীলঙ্কা শেষ দুই ওভারে তুলতে পেরেছে ৬ রান। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান করেছে শ্রীলঙ্কা।
১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। আর রুবেলের ৪ উইকেট এসেছে ৪৬ রানের বিনিময়ে।

 

স্কোরকার্ড:

টস: শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা
  রান বল
গুনাতিলকা ক তামিম ব মিরাজ ১১
থারাঙ্গা ব মোস্তাফিজ ৫৬ ৯৯
মেন্ডিস ক মাহমুদউল্লাহ ব মাশরাফি ২৮
ডিকভেলা ক সাব্বির ব সাইফউদ্দিন ৪২ ৫৭
চান্ডিমাল ব রুবেল ৪৫ ৭৪
পেরেরা ক তামিম ব রুবেল ১০
গুনারত্নে এলবি রুবেল ১৪
ধনঞ্জয়া ক মিঠুন ব মোস্তাফিজ ১৭ ১৬
মাদুশঙ্কা ব রুবেল
লাকমল রান আউট (মোস্তাফিজ)
চামারা অপরাজিত
অতিরিক্ত (লেগ বাই ৫, নো বল ২, ওয়াইড ২)
মোট (৫০ ওভারে অলআউট) ২২১
উইকেট পতন: ১-৮ (গুনাতিলকা, ২.৫ ওভার), ২-৪২ (কুশল, ৫.৬ ওভার), ৩-১১৩ (ডিকভেলা, ২৩.৫ ওভার), ৪-১৫৮ (থারাঙ্গা, ৩৫.৩ ওভার), ৫-১৬৩ (পেরেরা, ৩৮.৪ ওভার), ৬-১৮২ (গুনারত্নে, ৪৪.৩ ওভার), ৭-২০৯ (চান্ডিমাল, ৪৭.৩ ওভার), ৮-২১৭ (দনঞ্জয়া, ৪৮.৩ ওভার), ৯-২১৯ (মাদুশঙ্কা, ৪৯.২ ওভার), ১০-২২১ (লাকমল, ৪৯.৬ ওভার)
বোলিং: মিরাজ ১০-০-৫৩-১, মাশরাফি ৭-০-৩৫-১, মোস্তাফিজ ১০-০-২৯-২, মাহমুদউল্লাহ ৪–০–১৮–০, সাইফউদ্দিন ৪–০–১৫–১, সাকিব ৫–০–২০–০, রুবেল ১০–০–৪৬–৪।
আরও পড়ুনঃ   পুঁচকে লেগানেস কাল রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে এসে তাদের হারিয়ে দিয়েছে ২-১

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × five =