বর্ষা মৌসুম শেষ হইয়াছে এক মাস, অথচ চট্টগ্রাম মহানগরের সড়কগুলির ‘দেহ’ এখনও ক্ষতবিক্ষত। বেহাল সড়কে নগরবাসী নরকযন্ত্রণা পোহাইতেছে। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও-বা গর্তে জমিয়া আছে পানি। গর্তে পড়িয়া নষ্ট হইতেছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। ঘটিতেছে দুর্ঘটনা। তৈরি হইতেছে যানজট। প্রবল বর্ষণ, উপর্যুপরি জলাবদ্ধতা এবং ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে নগরীর অধিকাংশ সড়ক। বার বার সংস্কারের পরও অতিবৃষ্টি ও প্রবল জোয়ারে নগরীর সড়কসমূহ তছনছ হইয়া গিয়াছে। বিশেষত প্রধান সড়কগুলির অবস্থা বেহাল। নগরীর এশিয়ান হাইওয়ে, আরাকান সড়ক, পোর্ট কানেক্টিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, কর্ণফুলী সেতু লিংক রোড, আউটার রিং রোড ও বায়েজিদ বোস্তামী রোডে যানবাহন চলাচল কষ্টসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে। অথচ নগরীতে প্রবেশ ও বাহির হইবার মাধ্যম হইল এইসকল সড়ক। নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলির সাথেও রহিয়াছে প্রত্যেকটি সড়কের সংযোগ। মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হইতেছে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভার অংশে। চসিকের প্রকৌশল বিভাগসূত্রে জানা যায়, মহানগরে মোট সড়ক আছে ১১৭০ কিলোমিটার। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় এই মৌসুমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দুর্ভোগের সহিত যোগ হইয়াছে সেবা সংস্থাগুলির সমন্বয়হীন উন্নয়ন প্রচেষ্টা। চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে মূলত সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত। তাহা ছাড়াও যুক্ত আছে ওয়াসা, পিডিবি, বিটিসিএলসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। এইগুলির মধ্যে সিটি করপোরেশন বিদ্যমান সড়কের সংস্কারসহ পরিচ্ছন্নতা ও আলোকায়নের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নূতন সড়কসহ অবকাঠামো উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে এবং নির্মিত নূতন সড়ক সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ বাড়িয়াই চলিয়াছে। তাহা ছাড়া বত্সরজুড়িয়া খোঁড়াখুঁড়ি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সড়কের ভালো অংশেও খানাখন্দের সৃষ্টি হইতেছে।

বন্দরনগরীতে গত ১৪ বত্সরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় হইয়াছে ৩০৪ কোটি টাকা। বর্তমান মেয়র গত দুই বত্সরেই ব্যয় করিয়াছেন ৩২ কোটি টাকা। তথাপি জলাবদ্ধতা হইতে মুক্তি মিলে নাই নগরবাসীর। বলা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় করা এই টাকা জলেই গিয়াছে; উপরন্তু, সড়কগুলি আরও বেহাল হইয়াছে। সমন্বয়হীন উন্নয়নকর্ম এবং যথাসময়ে সংস্কারের অভাবে জনদুর্ভোগ কেবল বাড়িয়াই চলিয়াছে। প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন পূর্বে বিমানবন্দর সড়কের বেহাল অবস্থা দেখিয়া প্রকাশ্য অনুষ্ঠানেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করিয়াছিলেন; চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে কার গাফিলতিতে রাস্তাঘাটের এই দুরবস্থা তাহা জানিতে চাহিয়াছিলেন। আমরাও ইহা জানিতে চাই। যাহারা গাফিলতি করিতেছে, উপযুক্ত ও সুসমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত কিংবা বিলম্বিত করিতেছে তাহাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। অমানবিক যন্ত্রণা হইতে মুক্তি মিলুক বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + eight =