ক্ষণিকের জন্য বার্সেলোনার জার্সিতে নেমে এল ‘লিভারপুল মুহূর্ত’। লিভারপুল থেকে বার্সায় যোগ দেওয়া দুই খেলোয়াড়ের দারুণ বোঝাপড়া। বাঁ প্রান্ত থেকে বল বাড়ালেন লুইস সুয়ারেজ। মাঝে দ্য গ্রেট লিওনেল মেসিকে দর্শক হয়ে থাকতে হলো। ডান প্রান্তে স্লাইড করে দুরূহতম কোণ থেকে বল জালে পাঠালেন সদ্যই লাল জার্সিকে বিদায় বলে আসা ফিলিপে কুতিনহো।

বার্সা জার্সিতে এই ব্রাজিল প্লে মেকারের প্রথম গোলটা হলো দুর্দান্ত। পরে সুয়ারেজের দ্বিতীয় গোল-সহায়তায় ইভান রাকিতিচ করলেন ২-০। দুই লেগ মিলিয়ে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ৪০তমবারের মতো কোপা দেল রের ফাইনালে উঠে গেল বার্সা। কিংস কাপ নামেও পরিচিত রাজার এই ট্রফিটা বার্সার মতো জিততে পারেনি আর কেউই।

এবারের ফাইনালে সেভিয়াকে হারাতে পারলে এটি হবে বার্সার ৩০তম কাপ ট্রফি। কাল ফিরতি লেগে লেগানেসকে ২-০ গোলে হারিয়ে আগেই ফাইনালে উঠে গেছে সেভিয়া। এই দুদলের প্রথম লেগটা ১-১ ড্র হয়েছিল।

ফাইনালের দিনক্ষণ, মাঠ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মৌসুমের সবচেয়ে কঠিন পর্বে প্রবেশের আগে বার্সা নিজেদের কাজটা আরেকটু গুছিয়ে রাখল। লিগ শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত তাদের। কাপ ট্রফিটাও এক ম্যাচ দূরে। চ্যাম্পিয়ন লিগের নকআউট পর্ব শুরুর আগে বেশ স্বস্তিতে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল।

আজ ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ততটা স্বস্তি নিয়ে করতে পারেনি বার্সেলোনা। বার্সা এক গোল করলে কমপক্ষে তিনগোল করতেই হবে, ভ্যালেন্সিয়াকে এটাই বেশি তাতিয়ে রেখেছিল। শুরুতে বার্সাকে ঠেসে ধরেছিল তারা। নিজেদের মাঠে একটা গোল ভ্যালেন্সিয়াকে ভাসিয়ে রাখত লড়াইয়ে। আর পাল্টা আক্রমণে ভ্যালেন্সিয়া হুমকি হয়ে উঠছিল বার বার। পিকে আর গোলরক্ষক সিলিসেন দুবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাই ট্রাম্প কার্ডের চালটা চাললেন ভালভার্দে। আর মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে বার্সার জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করলেন কুতিনহো। তবে ম্যাচের নায়ক ব্রাজিল তারকা বা মেসিও নন। নিঃসন্দেহে সুয়ারেজ। ২০১৩ সালে লিভারপুলের জার্সিতে কুতিনহোর প্রথম গোলটাও তাঁর বানিয়ে দেওয়া ছিল। সেটি মনে করিয়ে দেওয়ার দারুণ এক উপলক্ষ যেন তৈরি করলেন এল পিস্তেরো।

আরও পড়ুনঃ   বার্সার কাছে ‘গার্ড অব অনার’ চান রোনালদো!

থামলেন না সেখানেও। আগের ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করা সুয়ারেজ কুতিনহোর গোলটা বানিয়েছে দারুণ দুই টার্নে ভ্যালেন্সিয়া রক্ষণকে ছত্রখান করে। রাকিতিচের ৮২ মিনিটের গোলটাও সুয়ারেজ-সাইক্লোন সামলাতে চুরমার রক্ষণের সুবাদে। তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। সুয়ারেজ ঘুরে গিয়ে বল আবার ফিরিয়ে নিয়ে, তাঁকে ফাউল করে হলেও থামামে মরিয়া স্লাইডিং ট্যাকল সামলে, শেষ মুহূর্তে আরেক দফা ফাউলে পড়ে যাওয়ার আগে বল ঠেলেছেন বক্সের দিকে। রাকিতিচের বাঁ দিকে নেওয়া জোরালো শট ২-০ করেছে।

তাতেই বার্সেলোনা প্রথম দল হিসেবে টানা পঞ্চমবার কোপা ডেল রের ফাইনালে উঠল। আরও একটা ম্যাচে বার্সার গোলের ধার দেখা গেল দ্বিতীয়ার্ধে। গোলশূন্য প্রথমার্ধ দেখে তাই বার্সার প্রতিপক্ষেরা এখন আর স্বস্তিতে থাকবে না মোটেও। আর শীতকালীন দলবদলকে উষ্ণ করে বার্সায় নাম লেখানো কুতিনহোর এত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া বার্সার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে নিশ্চয়ই!

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 4 =