ভারতের অন্যতম তারকা শচীন টেন্ডুলকার, আর বিশ্বব্যাপী অভিজাত গাড়ির শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড বিএমডব্লিউ—এ দুইয়ে মিলে যখন জুটি হয়, তখন তা দেখতে বা ভাবতে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই অনবদ্য হবে। ঠিক তা-ই ঘটল ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়, যেখানে চলছে আন্তর্জাতিক গাড়ি প্রদর্শনী।

সপ্তাহব্যাপী এই মোটর প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগের দিন বুধবার রাতের কথা। এক-এক করে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর নতুন মডেলের গাড়ির প্রিমিয়ার বা প্রথম প্রদর্শন হচ্ছিল। একঘেয়েমিও যেন পেয়ে বসছিল অনেককেই। এমন সময়ে নতুন একটি গাড়ির ওপর থেকে কালো কাপড় সরিয়ে নিতেই সবার দৃষ্টি সেদিকেই ঘুরল। দেখা গেল, একটি ঝা-চকচকে শ্বেতশুভ্র মোটরগাড়ি। ঠিক তখনই গাড়িটির পাশে এসে দাঁড়ালেন শুধু ভারতই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা তারকাদের অন্যতম একজন—শচীন টেন্ডুলকার। মুহূর্তেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশে আলোকিত হয়ে উঠল বিশাল প্যাভিলিয়ন।

‘অটো এক্সপো: দ্য মোটর শো ২০১৮’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া স্থানীয় ও বহুজাতিক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বুধবার তাদের নতুন মডেলের গাড়িগুলোর প্রিমিয়ার করে, অর্থাৎ সাংবাদিকদের সামনে প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করে। প্রদর্শনীটির সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে এখানে এসেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশ মিলিয়ে দুই হাজারের মতো সাংবাদিক। প্রদর্শনীটির আয়োজক সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (সিয়াম)।

বুধবার রাতে ২০ মিনিট পরপর একেকটা কোম্পানির প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন দু-চার-পাঁচটি করে গাড়ির পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের আয়-ব্যয়ের খতিয়ানও জানানো হয়। সবার শেষে রাত আটটার দিকে শুরু হয় বিএমডব্লিউ ইন্ডিয়ার ব্রিফিং। এ সময় ভারতের চেন্নাইয়ে বিএমডব্লিউর কারখানা করার কথা জানালেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

প্রথমেই দেখানো হলো দুটি নতুন মোটরসাইকেল। একটির দাম ১৩ লাখ রুপি, অন্যটির ১৫ লাখ। এরপর বিএমডব্লিউর বিখ্যাত সেই বিলাসবহুল গাড়ির পরিচিতি পর্ব। এক সারিতে চারটি নতুন গাড়ি—লাল, মেরুন ও হালকা বাদামি রঙের। তিনটিই ইলেকট্রিক অর্থাৎ বৈদ্যুতিক চার্জ দিয়ে চালানো যাবে। এ গাড়ির গতি তোলা যাবে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

আরও পড়ুনঃ   জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন ট্রাম্প, কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি আরব নেতাদের

তখন কেবল দিনের সেরা চমকটাই বাকি। কাপড় সরিয়ে নেওয়া হলো চতুর্থ গাড়িটির ওপর থেকে। সবাই দেখলেন বিএমডব্লিউ সিক্স সিরিজের নতুন মডেল। গণমাধ্যমের কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে উঠলেন ৫৬ লাখ ভারতীয় রুপি দামের দুধসাদা রঙের এই গাড়ির ছবি তুলতে। ঠিক এ সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলা হলো, এবার আসছেন শচীন টেন্ডুলকার। পেশাদার মডেলদের মতো গাড়িতে হাত রেখে, ঠেস দিয়ে শচীন এপাশ-ওপাশ করে দাঁড়ালেন। আর সহস্রাধিক ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী হলো তাঁর ছবি।

একপর্যায়ে ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের আলো কমে এল। শচীনের কাছে গাড়িটি নিয়ে তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। নতুন মডেলটির প্রশংসা করে তিনি বলতে শুরু করলেন নিজের কথা। জানান, মুম্বাইয়ে তাঁর বাড়ি। সপ্তাহান্তে সুযোগ পেলেই খুব সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে। নিজেই চালান। কখনো গাড়ি থামিয়ে পথের পাশে দাঁড়ান চা খেতে। তবে লোক জড়ো হওয়ার আগেই যে গাড়ি নিয়ে টান দিতে হয়, সেটিও বলে রাখলেন।

শচীন জানালেন, বিশ্বের অনেক দেশেই তিনি গাড়ি চালিয়েছেন। কিন্তু নিজের স্বপ্নের গন্তব্যে এখনো পৌঁছাতে পারেননি। স্বপ্নটি হলো, তিনি লাদাখে গাড়ি চালাতে চান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সুযোগ হয়নি। তবে এ বছরের শেষ দিকে তাঁর এই স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা করেন তিনি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + two =