খন্দকার মহিউদ্দিন:

যারা দেশের বাইরে যান তাদের জন্য এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণ কিছু নিয়ম জানা না থাকলে আপনার কষ্টার্জিত টাকা হয়ে যেতে পারে অবৈধ টাকা। এমনকি সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে এই অবৈধ টাকার জন্য আপনার জেল জরিমানাসহ আরো বহুবিধ ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে।

তাই জেনে নিন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে কত টাকা করে নিতে পারবেন অথবা নিয়ে আসতে পারবেন।

বাংলাদেশী টাকা বহনের ক্ষেত্রে: 

* দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি টাকায় মাথাপিছু ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা) সঙ্গে রাখতে পারবেন।

* বাংলাদেশ টাকা বহনের এই পরিমাণ দেশের বাইরে যাওয়া এবং দেশের বাইরে থেকে আসা দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

* মনে রাখবেন, বাংলাদেশী টাকার এন্ডরসমেন্ট বলে কিছু নেই।

* তবে আপনার কাছে যে মাথাপিছু ১০,০০০ টাকার বেশি থেকে থাকে তাহলে বিদেশ গমনের পূর্বে অবশ্যই তা ডিপার্টিং বন্দরের যেকোনো অনুমোদিত ডিলার অথবা ব্যাংক থেকে বিদেশি মুদ্রায় বদলে নিয়ে এন্ডরসমেন্টের কাজটি সেরে নেবেন। কারণ আপনি কোনভাবেই এই দশ হাজার টাকার চাইতে বেশি পরিমাণেের বাংলাদেশী মুদ্রা সাথে নিয়ে দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

ডলার, পাউন্ড বা অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রে:

ক) দেশি আগমনের ক্ষেত্রে আপনি দেশের বাইরে থেকে যেকোনো পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসতে পারবেন এক্ষেত্রে কোনো এন্ডরসমেন্টর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই পরিমাণটি যদি পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিমানবন্দরে শুল্ক কর্মকর্তাদের নিকট এফএমজে নামক ফার্মটি ফিলাপ করে ঘোষণা প্রদান করতে হবে আপনি কত পরিবহনের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এসেছেন। এই ঘোষণাপত্রের ঘোষণা অবশ্যই দিতে হবে, অন্যথায় আপনি বিভিন্ন রকমের বিপাকে পড়তে পারেন। আর সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, এই ঘোষণাপত্র পূরণের ক্ষেত্রে আপনার কোনো ফি প্রদান করতে হবে না।

খ) দেশের বাইরে ভ্রমণের সময় অবশ্যই ‘ভ্রমণ কোটা’ অনুযায়ী আপনার নির্ধারিত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এন্ডরসমেন্ট করিয়ে নেবেন। এন্ডরসমেন্ট ছাড়া দেশের বাইরে কোনো প্রকার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে যাবার কোনো চেষ্টাই করবেন না। ভ্রমণ করার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন কারণ ভ্রমণ করার খরচের বাইরের পরিমাণ টাকা আপনি কোনো দেশে নিয়ে যেতে পারবেন না।

বাংলাদেশের ভ্রমন কোটা অনুযায়ী আপনি কোথায় কত মুদ্রা নিয়ে যেতে পারবেন?

* ব্যক্তিগত বাৎসরিক, ১২ হাজার মার্কিন ডলার অথবা তার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা।

* সার্কভুক্ত দেশ ও মায়ানমারের ক্ষেত্রে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা।

* বাংলাদেশের অনুমোদিত অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে ৭ হাজার মার্কিন ডলার বা সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা।

* একই সাথে দুই ধরনের দেশে যদি ভ্রমণ করতে গিয়ে থাকেন তাহলে আপনি মোট ১২ হাজার মার্কিন ডলার অথবা তার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা সাথে  রাখতে পারবেন।

* আপনি যদি চিকিৎসাজনিত কারণে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে আপনি চিকিৎসার কাগজপত্র প্রদর্শন করে ১০,০০০ মার্কিন ডলার অথবা তার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা সাথে রাখতে পারবেন। কিন্তু আপনার যদি এর চাইতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হয় তাহলে যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আপনাকে প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারে।

* শিক্ষাজনিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করে অর্থাৎ শিক্ষাব্যয়, থাকা খাওয়ার খরচ ও অন্যান্য খরচ সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন করে অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ মুদ্রা নিয়ে যেতে পারেন অথবা আগেই ট্রান্সফার করে দিতে পারেন।

* মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে আপনার ভ্রমণটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের সমসাময়িক বিবেচ্য হবে।

*ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যবসা অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের কোটা রয়েছে যা ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী পরিবর্তনশীল। তাই ব্যবসায়ী তার ব্যবসার কোটা অনুযায়ী কত টাকা নিয়ে যেতে চান সেটি নিয়ে যেতে পারবেন সেটা জানার জন্য যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করলে হবে।

বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে দেশি বা বিদেশি মুদ্রার সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি সানন্দে বৈধ পন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা অথবা দেশের মুদ্রা নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মুদ্রা বহনের এই নীতিগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিভিন্ন রকম সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশী দূতাবাসে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য যারা বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন তারা এই ভ্রমণ কোটার আওতায় পড়বেন না।

আনন্দময় হোক আপনার ভ্রমণ।

তথ্যসূত্র: জার্মানপ্রবাসি.কম

সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 1 =