জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আফসার আহমেদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও তার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই বিভাগের সাবেক এক ছাত্রী। যিনি বর্তমানে দেশের সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে, বিয়ের পরে জোর করে গর্ভপাত এবং ঔরসজাত সন্তানকে অস্বীকার করার চাঞ্চল্যকার তথ্য উঠে এসেছে ওই অভিযোগপত্রে। এমনকি সন্তান জন্ম দেয়ার কারণে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনা প্রকাশ করলে সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা ও দাম্পত্য জীবনের ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করার হুমকির কথাও উঠে এসেছে ওই অভিযোগপত্রে। অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থীদের মধ্যে প্রভাবশালী। যিনি সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেছেন, ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর অধ্যাপক আফসার আহমেদের সাথে তার বিয়ে হয়; কিন্তু তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে আমি অনুষদে সেরা রেজাল্ট করার পরে আফসার স্যার আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকে। ফলে ক্রমশ তার সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্ত্রীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি আমার কাছে ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন হতাশার কথা শেয়ার করেন। পরে আফসার আহমেদের অসহায়ত্বের কথা জেনে একসময় তার প্রতি আমার একধরনের মায়া জন্মায়। আর সেই মায়ায় আমাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে।

একপর্যায়ে ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর শরিয়তসম্মত নিয়মে আমাকে বিয়ে করে।’ অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী বলেন, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি প্রথম অন্তঃসত্ত্বা হলে তার ডাক্তার ভাই ও এক বন্ধুর বরাত দিয়ে আমার গর্ভের সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে গর্ভপাত করানো হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে আমি দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হলে তিনি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এ সন্তানকে দুনিয়াতে আসতে দেবে না, কথা না শুনে জন্ম হলে ডিএনএ রিপোর্টে পিতৃপরিচয় মিথ্যা প্রতিপন্ন করার হুমকি দেয়। এমনকি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। তার হুমকিতে আমি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আমার ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুত্রসন্তান জন্ম হয়।

আরও পড়ুনঃ   দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৪, আহত ৭

এর ঠিক দুই দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর আমাকে তালাকের নোটিশ পাঠায় অধ্যাপক আফসার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আফসার আহমেদের নামে এর আগেও প্রতারণা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক আফসার আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানি না। সে রকম কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা তা আইনিভাবে মোকাবেলা করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে হস্তান্তর করা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 7 =