নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুটা ভালো হলো না পাকিস্তানের। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হারল তারা। তবে হার নিউজিল্যান্ডের কাছে হলেও, আসল প্রতিপক্ষ ছিল বৃষ্টি! একের পর এক উইকেট হারিয়েও লড়াকু মেজাজে খেলছিল পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বৃষ্টি সব পণ্ড করে দিলো। ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ৬১ রানে হেরে গেল পাকিস্তান।

অথচ দুর্দান্ত ব্যাটিং করে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিল উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফখর জামান। দলের দুঃসময়ে ফাহিম আশরাফকে নিয়ে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। চার ছক্কার ফুলঝরি উড়াচ্ছিলেন। ৮৬ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় ৮২ রান করেছিলেন। অপরপ্রান্তে থাকা ফাহিমও কম যাননি। দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১৫ রান ঝুলিতে পুরে ছিলেন। পাকিস্তানকে খাদের কিনারা থেকে তুলে নিচ্ছিলেন এই জুটি। দলের সংগ্রহ ছিল ১৬৬ রান।

ঠিক তখনি বৃষ্টি। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে যায় কিউইরা।

এর আগে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠায় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে শুভ সূচনা করে দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরোর। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৮৩ রান। এ জুটির ভাঙন ধরায় হাসান আলি। সাজঘরে ফেরান মারমুখী মুনরোকে। ৩৫ বলে ছয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৫৮ রান করেন তিনি।

মুনরোর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন উইলিয়ামসন। গাপটিলকে সঙ্গী করে৭৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। ফখরের বলে হাফ সেঞ্চুরি থেকে দুই রান দুরে থাকতেই সাজঘরে ফিরেন গাপটিল।

তবে সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামসন। আট বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১১৫ রান করে রুম্মন রইসের বলে সাজঘরে ফিরেন তিনি।

এরপর নিকোলাস ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেননি। ৪৩ বলে অর্ধশত করেন।

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

পাকিস্তানের পক্ষে তিনটি উইকেট সংগ্রহ করেন হাসান আলি।

আরও পড়ুনঃ   ভারতে অস্ট্রেলিয়ার টিম- বাসে হামলা

আইপিএলে দামি খেলোয়াড় কোহলি

২০০৮ সালে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত আইপিএলের ১১টি আসর শেষ হয়েছে। এই ১১টি আসরে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসরে খেলেছেন বিরাট কোহলি। শুধু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়েই এতগুলো মওসুমে অংশ নিয়েছেন। আরসিবি তাদের অধিনায়ক কোহলিকে ১৭ কোটি রুপিতে ধরে রেখেছে। তাতেই আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হয়ে গেছেন কোহলি। আইপিএলে এর আগে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড ছিল ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের। ২০১৫ সালে তাকে ১৬ কোটি রুপিতে কিনে নিয়েছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।

২০১৮ সালের আইপিএলের খেলোয়াড়দের নিলাম হবে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি। তার আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে আগের পাঁচজন ক্রিকেটারকে ধরে রাখার সুযোগ দেয়া হয়। আরসিবি ওই সুযোগেই রেকর্ড পরিমাণ অর্থে কোহলিকে বেঁধে রাখে। কোহলি ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতীয় লেগস্পিনার সরফরাজ খানকে ধরে রেখেছে আরসিবি।
২০১৩ সাল থেকেই আরসিবির অধিনায়ক কোহলি। দলকে এখনো শিরোপা এনে দিতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন উজ্জ্বল। ২০১৬ সালে দলকে আইপিএলের ফাইনালে তুললেও হেরেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে। সেবছর তিনি ৮১.০৮ গড়ে ৯৭৩ রান করেছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসে এক মওসুমে ওটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

আইপিএলে মোট ১৪৯ ম্যাচে ৪৪১৮ রান করেন কোহলি। প্রথম চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্যাটসম্যানও তিনি। ২০১৬ সালে কোহলি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শুধু আরসিবির হয়েই আইপিএলে খেলবেন তিনি। তাকে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার বানিয়ে সেই সিদ্ধান্তের প্রতিই সম্মান জানালো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 1 =