পিয়ংইয়ং: উত্তর কোরিয়া জাপানের দিকে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পিয়ংইয়ং-এর আরো একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করেছে চীন। তবে বেইজিং বলেছে, উত্তর কোরিয়াকে থামানোর কোন চাবিকাঠি তাদের হাতে নেই। খবর বিবিসির। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন পিয়ংইয়ং-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানানোর পর এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানালো বেইজিং। রাশিয়াও এই অস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র হুয়া চুন-ইং ‘আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের’ আহ্বান জানিয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার এই ‘অবৈধ’ অস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করার পাশাপাশি বলেছে ‘ওয়াশিংটনের দিক থেকে একমাত্র আগ্রাসী কথাবার্তাই শোনা যাচ্ছে।’ উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া মধ্যম-পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের প্রায় পাঁচশো মাইল উপর দিয়ে উড়ে যায়। এসময় জাপানে বিমান অভিযান-বিরোধী সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতেও বলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি গিয়ে পড়েছে তিন হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে, জাপানি দ্বীপ হোক্কাইডোর কাছে। কর্মকর্তারা বলছেন, গত মাসে জাপানের দিকে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়েছিলো এবারেরটি তার চেয়েও বেশি উপর দিয়ে এবং আরো বেশি দূরে গিয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো আবে বলেছেন, তার দেশ এধরনের ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ বরদাস্ত করবে না। উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়াও দুটো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এই পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে পিয়ংইয়ং-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি আরো কঠোর করা হয়েছে। শুক্রবার আরো পরের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এবিষয়ে বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 + 20 =