ইন্টারনেট দুনিয়ার কিছু জিনিস ‘ভাইরাল’ হয় বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে ‘ব্লু হোয়েল’ গেম নিয়ে এমনই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ধাপে ধাপে প্ররোচিত করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার কথিত গেম এটি। গত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে আলোচিত ছিল ব্লু হোয়েল গেম। এটি মূলত ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি চ্যালেঞ্জ নামে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গেম হিসেবে এটি বিনোদনের খোরাকের বদলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বলা হয়, এর ৫০টি ধাপ রয়েছে। একবার এই গেম খেললে বের হওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন: ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে উঠে একাকী ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেললাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি।

গত আগস্ট মাস থেকেই ওই গেম নিয়ে ভারতে আলোচনা হচ্ছিল। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, গেম খেলতে গিয়ে সেখানে বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সব কটি আত্মহত্যার পেছনে দায়ী ব্লু হোয়েল নামের একটি গেম।

বাংলাদেশে গত অক্টোবর মাসের শুরুতে ঢাকার এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক ছড়ায়। রাজধানীর এক শিক্ষার্থী ৫ অক্টোবর নিজের শয়নঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। গুঞ্জন ওঠে, সে জীবনঘাতী গেম ব্লু হোয়েল খেলত। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ শুরু হলে ব্লু হোয়েল নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

গত ১১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের কথিত অনলাইন গেম ব্লু হোয়েলে আসক্ত হওয়ার খবর মেলে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে কাউন্সেলিং করা শুরু করে। এরপর তিনি গেমটি না খেলার জন্য মনস্থির করেন।

আরও পড়ুনঃ   ‘আইটি খাতে রপ্তানি ৮০০ মিলিয়ন ডলার’

ব্লু হোয়েল নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। দেশে ব্লু হোয়েলের ‘অস্তিত্ব’ আছে কি না, তা জানতে গত ৯ অক্টোবর বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ঠিক এমন অবস্থায় একটি ভুয়া বার্তা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মোবাইল ফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নামে ছড়ানো বার্তাটিতে বলা হয়, ‘১৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বাংলাদেশের সব অ‍্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্লু হোয়েল গেম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।’ তবে সেই ভুয়া বার্তা ছড়ানোর পর বিটিআরসি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + fourteen =