ভারতজুড়ে এখন বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় ভাটার টান শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মূলত গত এক বছর ধরে চলছে বিজেপির এই ভাটার টান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, নোট বাতিল, জিএসটি চালু, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকার সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জনপ্রিয়তা হ্রাসের মূল কারণ। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার ফলাফল দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ২০১৯ সালের মে মাসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে জয়ের জন্য বিজেপি নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে।

বিজেপি এখন তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য এ বছরের শেষের দিকে লোকসভার নির্বাচন সেরে ফেলতে চায়। বিজেপির লক্ষ্য, তাদের জনসমর্থন থাকার মধ্যেই এই লোকসভার নির্বাচন সেরে নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে। যদিও বিজেপির ‘এক দেশ, এক ভোট’ কর্মসূচিকে মেনে নেয়নি দেশের বহু রাজনৈতিক দল এখনো। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস আগেই আপত্তি তুলেছে। শুধু সমর্থন জানিয়েছে বিহারের নিতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল।

এ বছর ভারতের আট রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তাই বিজেপি এখন চাইছে, এ বছর এবং আগামী বছর যে ১৩টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন আছে, আগামী বছর তা লোকসভার নির্বাচনের সময় সেরে নিতে চায়। এ জন্য কোনো কোনো রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আনতে হবে, আবার কোনো কোনো রাজ্যের নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে দিতে হবে। এটা সফল হলে মোদি একসঙ্গে ১৩টি রাজ্য আর লোকসভার নির্বাচন একসঙ্গে করে তাঁর কর্মসূচির বাস্তবায়নের প্রথম সেমিফাইনাল খেলা সেরে নিতে পারবেন।

এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের যে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই রাজ্যগুলো হচ্ছে রাজস্থান, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় ও মিজোরাম রাজ্য। আর লোকসভা নির্বাচনের সময় যে পাঁচটি রাজ্যের ভোট হওয়ার কথা সেই রাজ্যগুলো হলো অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ওডিশা, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম। লোকসভা নির্বাচনের পাঁচ থেকে আট মাস পর যে তিনটি রাজ্যের নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই রাজ্য তিনটি হলো মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খন্ড। ফলে এই ১৩টি রাজ্য আর লোকসভার নির্বাচন নিয়ে ‘এক দেশ, এক ভোট’ কর্মসূচির প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি মনে করছে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের স্বপ্নের কর্মসূচি চূড়ান্ত রূপ পাবে। কমবে নির্বাচনী ব্যয়।

আরও পড়ুনঃ   ইরানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা চারশ ছাড়িয়েছে

অন্যদিকে বিজেপি এটাও মনে করছে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা গেলে বিরোধীরাও হাতে সময় কম পাবে, যাতে করে তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ কম পাবে। ফলে বিজেপির লক্ষ্য হাসিল হবে। জয় আসবে তাদের।

এদিকে কংগ্রেসের ভোট ব্যবস্থাপকেরা ইতিমধ্যে বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে ১৫টি রাজ্যে যে ভোট হয়েছে, সেই সব রাজ্যের অন্তত ১৯১টি লোকসভা আসনে এগিয়েছিল বিজেপি। ভারতে রয়েছে লোকসভার ৫৪৩টি আসন। বিশ্লেষকেরা এখন ভোট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এখন সেই আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৬টিতে। কমেছে ৪৫টি। অন্যদিকে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিজেপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের ছবি। ২০১৪ সালে বিজেপি যেখানে ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশে। কমেছে ১০ শতাংশ। পাশাপাশি কংগ্রেসের বেড়েছে ১২ শতাংশ ভোট। এসব খবরে দুশ্চিন্তার ছায়া ঢেকে ফেলেছে বিজেপিকে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × five =