ভারতের এক আদালত দুই বছর বয়সী এক মানুষখেকো বাঘিনীকে হত্যার পরোয়ানা বহাল রেখেছে। এই বাঘিনীর হাতে চারজন মানুষের জীবন যাওয়ার পর এটিকে হত্যার জন্য গত ২৩শে জুন নির্দেশ জারি করে মহারাষ্ট্রের বন বিভাগ।

কিন্তু মহারাষ্ট্রের আদালতে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে পশু অধিকার কর্মীরা। গত জুলাই মাসে মহারাষ্ট্রের ব্রাহ্মপুরিতে বাঘিনীটি দুজন মানুষকে হত্যা করে। এটির আক্রমণে আহত হয় আরও চারজন।

এরপর বন বিভাগের হাতে এটি ধরা পড়েছিল। কিন্তু রেডিও কলার পরিয়ে এটিকে আবার একটি টাইগার রিজার্ভে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর এই বাঘিনীর হামলায় নিহত হয়েছে আরও দুজন মানুষ।

এরপরই বন বিভাগ এটিকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতে সেটি চ্যালেঞ্জ করেন পশু অধিকার কর্মী ড. জেরিল বানাইট।

তাদের যুক্তি ছিল, এটিকে গুলি করে না মেরে চেতনানাশক বুলেট ছুঁড়ে ধরা হোক। তারপর দূরের কোন জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হোক। কিন্তু এই মানুষখেকো বাঘিনী নিয়ে ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলে আতংক তৈরি হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কালা নামের এই বাঘিনী গত ২৯শে জুলাই সংরক্ষিত বনে ঢোকার পর এ পর্যন্ত পাঁচশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। রেডিও কলার দিয়ে এটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্বে যত বাঘ আছে, তার ষাট শতাংশই ভারতে। কিন্তু বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে এবং শিকারিদের উৎপাতে বাঘের সংখ্যা কমে গেছে অনেক। ২০১৫ সালে ভারতে ৮০টি বাঘ মারা গেছে। এর আগের বছর মারা গেছে ৭৮ টি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten − 10 =