নিজ দেশে টিকতে না পেরে দেশান্তরী হয়েছে তারা। কিন্তু যেখানে ঠাঁই হয়েছে, সেখানেও এতটুকু স্বস্তি নেই। টিকে থাকার নিরন্তর লড়াই যেন তাদের নিয়তি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০০৮ ও ২০১২ সালে সহিংসতার কবলে পড়ে ভারত ও নেপালে আশ্রয় নেওয়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমের নিত্যদিন কাটে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে। সঙ্গে রাখাইনে চলমান সাম্প্রতিকতম সহিংসতায় সেখানকার স্বজনদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তো আছেই।

মিয়ানমারে হত্যা-নির্যাতনের মুখে পড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে গত তিন সপ্তাহে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। পাশেই ভারত সরকার ১০ বছর ধরে সে দেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে বিতাড়নের পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।

ভারতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ১৬ হাজার। অন্যরা অনিবন্ধিত। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৮ সাল থেকে আসা এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার জম্মুর বিভিন্ন বস্তিতে থাকে। তাদের অধিকাংশই প্লাস্টিকের বর্জ্য কুড়িয়ে তা বেচে বা শ্রমিকের কাজ করে জীবনধারণ করছে। তাদের অভিযোগ, তাদের প্রতি স্থানীয় লোকজন সব সময় বিরূপ আচরণ করে। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের জম্মু শাখা রোহিঙ্গাদের রাজ্য থেকে বের করে দিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানকার একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের না সরালে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

গত সপ্তাহে জম্মুর একটি রোহিঙ্গা শিবিরের কাছে একটি মরা গরু পাওয়া যায়। শফি আলম নামের একজন রোহিঙ্গা বলেন, ওই ঘটনার পর উগ্রপন্থী হিন্দুরা তাদের বিভিন্ন বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়া প্রায় ১০০ রোহিঙ্গা পরিবারের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। আর নয়াদিল্লির একটি শিবিরের ৪৭টির মতো রোহিঙ্গা পরিবার বলেছে, তারা এই দুঃসহ কষ্টে থেকে মারা যাবে, তবু দেশে ফিরবে না।

এদিকে নেপালেও রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি নোংরা, স্যাঁতসেঁতে বস্তিতে থাকে প্রায় ২৫০ রোহিঙ্গা। তারা রাখাইনে চলা নিধনযজ্ঞে সেখানকার স্বজনদের নিয়ে গভীর চিন্তিত। ২০১২ সালের সহিংসতার পর এই রোহিঙ্গারা কাঠমান্ডুতে পালিয়ে আসে।

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেপাল সরকারের নেই। তবে নতুন করে কেউ যাতে ঢুকতে না পারে, এ জন্য সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিতাড়নের ভয় না থাকলেও কাজকর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিমুহূর্তে হয়রানির শিকার হতে হয় কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গাদের। এ ছাড়া দেশের জন্য, দেশে থাকা স্বজনদের জন্যও তাদের মন কাঁদে।

সলিমুল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘দিন শেষে এটা তো আমাদের জন্য বিদেশবিভুঁইয়ে।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × two =