যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বিপদ এলে সবাই একসঙ্গে মোকাবিলা করব, সুদিন এলেও আমরা সবাই এক সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করব। আমাদের সাহস সঞ্চয় করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমি শুধু বলতে চাই, আমি যেখানে থাকি না কেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে অন্তত ছয়টি শর্ত তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে।

নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সে সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটে সেনাবাহিনী রাখতে হবে। ইভিএম চলবে না। মিডিয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। এসব শর্তের বিষয় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া দলের জাতীয় কমিটির নেতাদের মতামত নেন। এসময় সবাই উচ্চৈঃস্বরে হাত তুলে খালেদা জিয়ার শর্তের প্রতি সমর্থন জানান। হোটেল লা মেরিডিয়ানের বলরুমে আয়োজিত দুই পর্বের সভার সূচনা বক্তব্যে খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালত সরকারের কব্জায়। সঠিক রায় দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকতে নেতাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যারা বেঈমানি করবে তাদের চিহ্নিত করা হবে। আমরা একবার ক্ষমা করেছি। ক্ষমা বারবার হয় না। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া দলের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এসময় জাতীয় কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন। নেতারা তাদের বক্তব্যে দলীয় চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় রায় এলে যেকোনো আন্দোলনের জন্য তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে কেন্দ্রের নেতাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। দ্বিতীয় পর্বে ৪২ জন নেতা বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্য শোনে খালেদা জিয়া তাদের দিকনির্দেশনা দেন। সরকারের তরফে কোনো ধরনের উসকানি দেয়া হলে তাতে প্রলুব্ধ না হতেও নেতাদের বলেন খালেদা জিয়া। সভায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির চার শতাধিক নেতাসহ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা অংশ নেন। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। স্বাগত বক্তব্য ও মহাসচিবের প্রতিবেদন পেশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিওবার্তা প্রদর্শন করা হয় বড় পর্দায়। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে মাঝে খাবারের বিরতি দিয়ে সভা শেষ হয় সন্ধ্যায়। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
ভয় দেখিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না: সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে খালেদা জিয়া নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে কেউ ভয়ভীতি, লোভ দেখিয়ে কিছু করতে পারবে না। অতীতেও পারেনি, এখনো পারবে না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি, আমি দেশের মানুষের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে থাকব। আজ এই নির্বাহী কমিটির সভা থেকে আমি সবাইকে বলব, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আপনাদের বিরুদ্ধে বহু সন্ত্রাস হবে, ষড়যন্ত্র হবে, নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হবে। আমরা কেউ ভয়ে ভীত হব না। এসময় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বেগম জিয়া বলেন, সঠিক পথে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। দেশ গড়ার জন্য এগিয়ে আসুন। সাহস-শক্তি সঞ্চয় করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা কারো ওপর বদলা নেব না। কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না।
আদালত সরকারের কব্জায়: খালেদা জিয়া বলেন, দেশের নিম্ন আদালত যে ‘সরকারের কব্জায়’, তা ‘সর্বোচ্চ আদালতও’ বলছে। সরকারের কথার বাইরে, ভাবনা-চিন্তা যাই থাকুক না কেন, তারা বুঝতে পারছে যে এটা সঠিক নয়, কিন্তু সঠিক রায় দেওয়ার ক্ষমতাটা তাদের নেই। একটি মামলায় জজ আদালতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাস পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, সঠিক রায় দিলে যে কী হতে পারে সেটা আপনারা দেখেছেন। তারেক রহমানের সঠিক রায় দেয়া হয়েছে যে আদালতে, সেই বিচারককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সত্যি কথা বলায় সরকার তাকে দেশের বাইরে যেতে এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। সরকারকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি বন্ধ করে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা কখনো প্রতিহিংসা করব না। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এভাবে বেশি দিন যাওয়া যায় না; পৃথিবী বহু দেশে বহু শক্তিশালী নেতা এসেছেন, কারও ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। আজকে তারা কোথায়? যাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল, তাদের অনেকে কিন্তু দুনিয়ায় নেই। কাজেই এটা বুঝতে হবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। খালেদা জিয়া তার মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দীনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। তারা চেয়েছিল মাইনাস ২ ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু জনগণ তা মেনে নেয়নি। তখন তারা আমার নামে ৪টি ও শেখ হাসিনার নামে ১৫টি মামলা দায়ের করেছিল। হাসিনা জামিনে নয়, প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার মামলাগুলো কোয়াশ করে ফেলা হয়েছে। আর আমার মামলাগুলো প্রত্যাহার তো হয়নি, বরং বেড়েছে বহুগুণ। আমাকে ঘরে বন্দি রেখে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়। তারা তাদের দলের নেতাকর্মীদের মামলাগুলোও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলার পর মামলা দিয়ে ঘরে ঘরে তল্লাশি করে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। বেগম জিয়া বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তার প্রমাণ এ সভা। আমরা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট বা অন্য কয়েকটি স্থানে এ সভা করতে চেয়েছিলাম। টাকা জমা করার পরও তা করতে দেয়া হয়নি। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এমন হলে দেশে কী গণতন্ত্র আছে? আইনের নামে কালাকানুন করে মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা তাও কিছু লেখেন। টকশোতে কিছু কথা বলেন। তাও বন্ধ করার জন্য কালাকানুন তৈরি হচ্ছে। এখন দেশে কথা বলার অধিকারও না থাকলে নির্বাচন হবে কী করে?
তিনি বলেন, দেশের মানুষ কষ্টে আছে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তার পরও উন্নয়নের ফিরিস্তির নামে কী হচ্ছে দেশের মানুষ তা বুঝে। আওয়ামী লীগ আসলে শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়। ব্যাকের টাকা লোপাট হচ্ছে। কয়েক বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে। সরকারি দলের লোকজন বিভিন্নভাবে টাকা বানিয়ে বিদেশে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে। পিয়নের চাকরিতে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে। দাড়ি-টুপি রাখলেই মুসলমানদের জঙ্গি বানানো হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফাঁস হচ্ছে প্রশ্নপত্র। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এমপি, মন্ত্রী সবাই চোর। এই রাজত্বে সবাই চোর।
মানুষ পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, মানুষ দুরবস্থা, অত্যাচার, গুম, খুন থেকে মুক্তি চায়। আর সে পরিবর্তন আসতে হবে ভোটের মাধ্যমে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা বলছে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। প্রচার করে বেড়াচ্ছে। নৌকা এমন ডোবা ডুবছে যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে, হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংসদ বহল রেখে নির্বাচন করতে চায়। এটা কোনো দেশে নেই। নিজস্ব দলীয় লোকদের প্রশাসনে বসানো হচ্ছে। তারা মনে করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু তারা যদি একটু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাহলে কারো কোনো কথা শুনতে হবে না। কারণ, তারা এদেশের নাগরিক। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের পুলিশও চায় নিরপেক্ষ গণতন্ত্র থাকুক। কিন্তু তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। নির্দেশ পালন না করলে পরিণতি ভালো হবে না। বিএনপির সঙ্গে জনগণ, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী আছে। যারা বাইরে আছে তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। তাই বিএনপির কোনো ভয় নেই। ভয় আছে আওয়ামী লীগের।
কর্মসূচিতে সবাইকে চান খালেদা: দলীয় সভা থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচির ঘোষণা না এলেও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিষয়ে নেতাকর্মীদের ইঙ্গিত দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হবে আমাদের শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক। সেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে আমি জনগণকেও আহ্বান করব। আসুন দেশের জনগণ, বিএনপি ও ২০-দল সকলে মিলে এদেশটা রক্ষা করি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করি।
দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যারা বেঈমানি করবেন, যারা এদিক-ওদিক, এক পা এদিকে অন্য পা অন্য দিকে রাখবেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে। এদের মূল্যায়নের জায়গা থাকবে না। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেব না। আমরা আগে একবার ক্ষমা করেছি, ক্ষমা বারবার হয় না। খালেদা বলেন, তিনি খোঁজ রেখেছেন, যারা অতীতে আন্দোলন করেছেন, দলের জন্য কাজ করেছেন, দলের সঙ্গে বেঈমানি করেননি, তাদেরকে ভালো জায়গা দেওয়া হবে- যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে।
ভোটে যেতে শর্ত: একাদশ জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে দেয়ার দাবি পুনরোল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে, জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। জনগণ যাতে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এই সংসদ রেখে নির্বাচন হবে না। ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তারা মাঠে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। আমি নির্বাহী কমিটির এই সভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, ইভিএম-ডিভিএম চলবে না।
২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর এই প্রথম পর্যদের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপারসন। সভামঞ্চে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নেতাকর্মীদের ভিড়, নিরাপত্তা কড়াকড়ি: নির্বাহী কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা ভিড় করেন হোটেল লা মেরিডিয়ানের আশপাশে। সভা ঘিরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ছিল কড়াকড়ি নিরাপত্তা। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা আসতে থাকেন। ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভাস্থলে এসে পৌঁছান। এসময় আশপাশে উৎসুক নেতাকর্মীরা ভিড় করলে তাদের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বিএনপির ২০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আটক করার বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা উত্তরের ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম বলেন, আমার সামনে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে শুনেছি আরো অনেককেই এখান থেকে আটক হয়েছেন। তবে আটক নেতাকর্মীদের নাম পদবি সম্পর্কে জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর থেকে লা মেরিডিয়ানে আসা নেতাকর্মীদের ভিড় কমতে থাকে। এসময় আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতের চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার মানবজমিনকে বলেন, নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালে হোটেলের নিচ থেকে আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সন্ধ্যায় সভা শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার গাড়ি হোটেল থেকে বের হওয়ার আগে অন্য নেতারা গাড়ি নিয়ে একে একে বের হয়ে যান। তারা বের হওয়ার পর খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হোটেল ছেড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ   মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক আর নেই

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 14 =