প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী ওজন বাড়াতে সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়ির ভেতরে সিলিকা জেল ঢোকানো হয়। তরল আকারে ওই জেল ঢোকানো হলেও বরফ দেওয়ার কারণে পরে তা শক্ত হয়ে যায়। ফলে মাছ কেনার সময় ক্রেতারা কিছু টের পান না। ওজনে না হয় ক্রেতারা ঠকলেন, কিন্তু সিলিকা জেল মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, এটা মানুষের লিভার ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে খেলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমনকি বিকলও হয়ে যেতে পারে।

কৃত্রিমভাবে মাছের ওজন বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন নয়। অতীতেও অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করার জন্য মাছের মাথা বা দেহে জেল, লোহার টুকরো বা রড ঢুকিয়ে ওজন বাড়িয়ে মাছ বিক্রি করেছেন। এভাবে ওজন বাড়িয়ে বিদেশে চিংড়ি রপ্তানির ঘটনা বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়ায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশি চিংড়ির ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে, যা রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া মাছ, ফল, শাকসবজি তাজা রাখার জন্য ফরমালিনসহ নানা ভেজাল দ্রব্য মেশানোর কাজ তো হয়েই চলেছে। দেখা যাচ্ছে, খাদ্যে ভেজাল মেশানো নিয়ে অনেক কথাবার্তা হলেও কোনোভাবেই তা ঠেকানো যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সব ধরনের ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানোর কোনো বিকল্প নেই। বোঝা যাচ্ছে শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ও কিছু অর্থ জরিমানা করে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে কঠোর নীতিগত অবস্থান জরুরি। কার্যকর ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য ভেজাল শনাক্তকারী সঠিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে এবং অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য জনবল বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সচেতন করারও উদ্যোগ নিতে হবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × one =