মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান অং সান সু চি ও দেশটির সেনাপ্রধানের ওপরও বর্তায়। সেই অপরাধের দায়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) তাদের বিচার করা সম্ভব। আমাদেরকে এ কথা জানান আন্তার্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইসিসির প্রসিকিউশন টিমকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো যেতে পারে।তুরিন আফরোজ বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা চলছে। তখন আমরা তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করিনি। একদিকে মামলা চলছে, অন্যদিকে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলেছে। এখনো তেমন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের গণহত্যার বিচারের জন্য বিশ্বে একটি স্থায়ী আদালত সৃষ্টি করা হয়েছে। জড়সব ঝঃধঃঁঃব ড়ভ ঃযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরসরহধষ ঈড়ঁৎঃ, ১৯৯৮-এর অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী আইসিসিতে বিচার করা সম্ভব। নিরাপত্তা কাউন্সিল রেজুলেশন পাস কোনো বিষয়কে যদি রেফার করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) বিচারের জন্য পাঠায়; সে ক্ষেত্রে বিচার করা সম্ভব। আমরা এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদকে কেবল উদ্বেগ জানাতে দেখেছি। কিন্তু মিয়ানমারকে বিচার করার জন্য এখনো কোনো রেজুলেশন নিতে দেখিনি। আরেকটি উপায় হচ্ছে, আইসিসি নিজেরাই স্ব-প্রণোদিত হয়ে অনুসন্ধান করে মামলা নিয়ে আসে। সে ক্ষেত্রে মিয়ানমারের গণহত্যার বিচার করা যেতে পারে। আমি মনে করি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ বর্বরোচিত গণহত্যার জন্য আইনি লড়াইয়ে যাওয়া উচিত।বাংলাদেশের আদালতে বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা সম্ভব নয়। এখানে বিচার করতে হলে আইনে কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল আমাদেরকে বলেন, যদিও মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়, তারপরও তাদের বিচার করা যাবে। আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বারে আবেদন করে তদন্তের অনুমতি চাওয়ার পর অনুমতি দিলে তদন্ত শুরু করা যাবে। এ ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল সর্বোচ্চ এক বছর এই তদন্তের অনুমতি আটকে রাখতে পারবে।তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল স্পেসাল কোর্ট করে দিয়ে বিচার করতে পারে। সেই বিচারের স্থান বাংলাদেশও হতে পারে।তাপস কান্তি বলেন, বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য। বাংলাদেশ চাইলে চলমান হত্যাযজ্ঞের তদন্ত করে আইসিসিতে রিপোর্ট দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে রেডক্রস ও ইউএসএইচসিআরের তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দিতে পারে।এই দুই আইনজীবী বলেন, সু চি এবং মিয়ানমার সেনাপ্রধান ছাড়াও একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইউনিয়ন মিনিস্টার ফর বর্ডার অ্যাফেয়ার্সকেও বিচারের আওতায় আনা যায়। কারণ দেশটির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনে তাদেরও ভূমিকার রয়েছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − 5 =