চট্টগ্রামে পণ্যবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরচালিত রিকশায় থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ওই ট্রাকের চাপায় দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানার সিনেমা প্যালেস এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করে চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চোখের সামনে নাড়িছেঁড়া ধন হারিয়ে মালেকা বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। দু’চোখ গড়িয়ে ঝরে চলছে বেদনাশ্রু।
নিহত মোজাম্মেল হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কচুরি গ্রামের ডাইলবাড়ি। বিল্লাল পরিবার নিয়ে নগরীর বাকলিয়ায় বগারবিশ শান্তিনগর আইয়ুব কলোনিতে থাকতেন। সন্ধ্যায় চৈতন্য গলির বাইশমহল্লা কবরস্থানে মোজাম্মেলের লাশ দাফন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে সন্তান ও ভাগ্নেকে নিয়ে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য নগরের শান্তিবাগের বাসা থেকে বের হন মা ঝর্ণা বেগম। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে তাদের ময়মনসিংহগামী ট্রেন
ধরার কথা ছিল। পথে সিনেমা প্যালেস এলাকায় পেঁৗছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঝর্ণা বেগমের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের সঙ্গে মোজাম্মেলের মাথা সজোরে ধাক্কা লেগে ফেটে যায়। আহত হন ঝর্ণা বেগমও। শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. লোকমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম কালা মিয়া।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আক্তার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘রিকশার সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে শিশুটি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। শিশুটির মাও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চালককে গ্রেফতার ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। শিশুটির বাবা মামলা করেছেন।’

বিল্লাল হোসেনের ভাগ্নে মো. সজীব সমকালকে বলেন, ‘আমি ও মামি একই রিকশায় ছিলাম। মামির কোলে ছিল মোজাম্মেল। হঠাৎ করে সামনে থেকে মালবাহী ট্রাক এসে আমাদের রিকশাকে জোরে ধাক্কা দিলে তিনজন তিনদিকে ছিটকে পড়ে যাই। মোজাম্মেল মামির কোল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের নিচে চলে যায়। শরীরের ওপর দিয়ে ট্রাকের চাকা যাওয়ায় তার পুরো শরীর থেঁতলে গেছে।’
মোজাম্মেলের বাবা বিল্লাল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ঈদের সময় ভোগান্তি হওয়ায় স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়িতে পাঠাইনি। এখন ভাগ্নেকে সঙ্গে দিয়ে বাড়িতে পাঠাচ্ছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। একমাত্র সন্তানকে এমন নির্মমভাবে হারাতে হবে জানলে তাদের বাড়িতে পাঠাতাম না।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + 13 =