মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। কারণ মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী সদস্যদের নির্মম অত্যাচার, অগ্নিসংযোগ, গুলি করে নিরীহ রোহিঙ্গাদের হত্যাকান্ড প্রতিরোধে ওই দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। : গতকাল সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এশীয় অ্যাডভোকেসি পরিচালক জন সিফটন  এক বিবৃতিতে বলেন, আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান অত্যাচারের শাস্তিস্বরূপ মিয়ানমারের  সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটি মনে করেছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত অভিযান চালাচ্ছে। এটা বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চলমান এই সংকটকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৈঠকের আগ মুহূর্তে মিয়ানমারের চলমান সংকট সমাধানে চাপ দেয়ার জন্যই এই আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এইচআরডব্লিউ’র আহবানের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির   প্রকাশিত এক খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সংকটের মুখে মিয়ানমারের চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে  এসেছে। যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশু রয়েছে।  সেখানে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন শরণার্থী যোগ হচ্ছে। এ কারণে  সেখানে কর্মরত সাহায্য সংস্থাগুলো ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। : এদিকে গত রবিবার মিয়ানমার সরকার সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা সবাইকে ফিরিয়ে নেয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের দাবি, গত আগস্ট মাসে পুলিশের চেকপোস্ট ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে যারা হামলা চালিয়েছিল, এই সব শরণার্থীর সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এই শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে তিনি মিয়ানমারের ওপর আরও বেশি চাপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 18 =