অসহিষ্ণুতা, হিন্দুত্ববাদ কায়েমের চেষ্টা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের রাজনীতির পরিণতিতে ভারতীয় জনতা পার্টি যে প্রবল সমালোচিত হচ্ছে তা এবার ধরা পড়েছে জনমত সমীক্ষাতেও। সেই সঙ্গে অর্থনীতির ব্যর্থতাও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সমীক্ষার মতে, বিজেপির জনপ্রিয়তা এখন হ্রাসের দিকে। তবে জোট হিসেবে ক্ষমতা হারানোর ভয় নেই। এবিপি আনন্দ-লোকনীতি-সিএসডিএস সমীক্ষা অনুযায়ী,  এখন ভোট হলে বিজেপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। অথচ গত নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে পেয়েছিল ২৮২টি আসন।

সমীক্ষার মতে, বিজেপির জনপ্রিয়তা কমতির দিকে হলেও এনডিএ জোট হিসেবে ক্ষমতায় টিকে থাকবে। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে পারে ২৯৩ থেকে ৩০৯টি আসন। গত লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। উল্টোদিকে এবারের সমীক্ষা অনুযায়ী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২টি আসন। গত লোকসভা নির্বাচনে ইউপিএ পেয়েছিল ৬০টি আসন। ফলে সমীক্ষায় কংগ্রেসের আসন বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। অবশ্য রাহুল গান্ধী কংগ্রেসকে ৪৪ থেকে ১০০-র কোটা পার করাতে সক্ষম হলেও, জয়ের কাছাকাছি জায়গাতে নিয়ে যেতে পারছেন না। এই মাসেই ১৯ রাজ্যের ১৭৫টি আসনে জনমত সমীক্ষা করেছে এবিপি নিউজ-লোকনীতি-সিএসডিএস। আট মাস আগেও তারা একই ধরনের সমীক্ষা করেছিল। তখন দেখা গিয়েছিল গত লোকসভা ভোটের তুলনায় বিজেপির জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু এই আট মাসে তাতে জনপ্রিয়তা হ্রাসের দিকে। গত বছর মে মাসে ৩৯ শতাংশ মানুষ বিজেপি-কে সমর্থন করেছিলেন। এ বছর জানুয়ারিতে তা কমে হয়েছে ৩৪ শতাংশ।  অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা বেড়ে ৯ শতাংশ থেকে হয়েছে ২০ শতাংশ। কংগ্রেসের মতে, এটা আসলে বিজেপির ‘অচ্ছে দিন’ শেষ হওয়ার সূত্রপাত। ভোট আসতে আসতে শরিক নিয়ে সরকার গড়ার অবস্থাতেও থাকবে না বিজেপি। ইতিমধ্যে বিজেপি সঙ্গী শিবসেনা জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিজেপির সঙ্গে নেই। একাই ভোটে লড়াই করবেন তারা।

আরও পড়ুনঃ   বৈঠকে বসছেন রুহানি-পুতিন-এরদোগান

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight + 19 =