মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার থেকে (২০ জানুয়ারি) কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। মেলা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। সপ্তাহব্যাপী মেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মধুসূদন একাডেমী সাগরদাঁড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মেলা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল শনিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।বিশেষ অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড.বীরেন শিকদার এমপি, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায়, সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, সংসদ সদস্য এডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, পুলিশ সুপার মো. আনিচুর রহমান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন।
মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, ৭ দিনব্যাপী মধু মেলায় থাকছে কবির সৃষ্টি ও সাহিত্য কর্মের উপর দেশ-বিদেশী কবি সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে আলোচনাসভা, কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আবৃত্তি, মধুগীতি পরিবেশনা, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শন। কুঠির শিল্প ও গ্রামীণ পসরা নিয়ে মেলায় বসবে প্রায় দু’শ স্টল।
সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, মেলায় সার্কাসসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলা উপলক্ষে কপোতাক্ষের দু’পাড়ের মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষ তাদের আত্বীয়-স্বজনদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেলা উপলক্ষে গোটা এলাকা সেজেছে সাজ সাজ রবে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আহম্মেদ জানান, মেলা চলাকালে আইন-শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দেবে।
মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার। ১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাইকেল মদুসূদন দত্তের কালজয়ী রচনাবলীর অন্যতম হলো-মেঘনাদবধ কাব্য, শর্মিষ্ঠা, ক্যাপটিভ লেডী, কৃষ্ণকুমারী, বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রোঁ, বীরাঙ্গনা। এ মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ   ‘অভিনয়ের সুযোগ দিতে হোটেলে ডাকতো বাবা’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × three =