জেলায় পাওয়ার টিলার চালিত সিডার মেশিন লাইন পদ্ধতিতে ফসল চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা।কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে টেকসই ও সময়োপযোগী আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ভূট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিমিট) কর্তৃক সিসা-এমআই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ পদ্ধতিতে গম ও ভূট্টা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাওয়ার টিলার চালিত সিডার মেশিন (বীজ বপন যন্ত্র) দ্বারা লাইন পদ্ধতিতে কম সময়ে ও কম খরচে বিভিন্ন ফসল চাষের উপর বাঘারপাড়া উপজেলার করিমপুরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানান। এ মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে ঊপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. জাহিদুল আলম।অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মেশিনারী ডেভেলপমেন্ট অফিসার ইঞ্জিনিয়ার সুবল চন্দ্র মন্ডল, আইডিই বাংলাদেশের মো. খালেকুজ্জামান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিজন কুমার রায় এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল ফ্যাসিলিটেটর জিএম মনিরুল ইসলাম ও মো. সাখাওয়াত হোসেন। মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষক মো. আবুল হোসেন এবং মো. জোহর আলী বলেন, তাদের জমি সিডার মেশিন দ্বারা এক চাষের মাধ্যমে সরিষা ও গম বপণ করায় খরচ কম হয়েছে এবং সময়ও কম লেগেছে কম। এছাড়া লাইন পদ্ধতিতে গম ও সরিষার উৎপাদন ভালো দেখে তারা খুশি এবং আগামীতে এ মেশিন দিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ বাড়াবেন বলে জানান।
কৃষিবিদ মো. জাহিদুল আলম জানান, কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর আয়বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শ্রমিক ও সময় স্বল্পতা এবং উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাত যখন অলাভজনক হয়ে যাচ্ছে সেখানে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষিকে লাভজনক করতে পারে। এছাড়া সকল ধরনের ফসল লাইন পদ্ধতিতে চাষ করা লাভজনক বলে জানান। এছাড়া যে সকল কৃষক এ সকল যস্ত্রপাতি কিনতে আগ্রহী তারা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে ৫০% ভর্তূকি পাবেন বলে তিনি জানান।
প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার সুবল চন্দ্র মন্ডল বলেন, সিমিট কর্তৃক প্রচলিত পাওয়ার টিলার চালিত সিডার, ধান ও গম কাটার যন্ত্র (রিপার), সেচ যন্ত্র এক্সিয়েল ফ্লো পাম্প (জাম্বো পাম্প) দক্ষিণাঞ্চলের যান্ত্রিক কৃষিকে এগিয়ে নিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । সিমিট বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির পরিচিতি ও ব্যবহার, ফসল উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য প্রদর্শণী প্লট স্থাপন ছাড়াও কৃষক, লোকাল সার্ভিস প্রভাইডার, মেকানিক ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সিডার মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসল বপণ করতে প্রতি ৩৩ শতকে খরচ হয় ২৫০ – ৩০০ টাকা যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ৩ টি চাষসহ খরচ হয় ৯০০ – ১০০০ টাকা। এ পদ্ধতিতে ধান, গম, ভূট্টা, ডাল ও তেল জাতীয় শস্য এবং পাট চাষ সহজলভ্যে করা যায়। এছাড়া ফলনও ১৫ – ২০ % বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুনঃ   ‘সোফিয়া’র সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + 17 =