উত্তর কোরিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে তাহলে প্রথমেই মারা যাবেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি এটা জানেনও। জাতিসংঘে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মুখপাত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাথন ওয়াচটেল এ পূর্বাভাস দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়ার ওপর পারমাণবিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘ দিয়েছে নতুন অবরোধ। কিন্তু তাতে থোড়াই কেয়ার করছেন কিম জং।

তিনি পাল্টা বলেছেন, তার দেশ ২০১৮ সালে আরো পারমাণবিক অস্ত্রে সমৃদ্ধ হবে। যদি এমনটাই হয় তাহলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। এমন যুদ্ধ যদি হয় তাহলে জনাথন ওয়াচটেলের মতে, প্রথমেই যারা মারা পড়বেন তার মধ্যে সম্ভবত থাকবেন কিম জং উন। এক্ষেত্রে তিনি ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কথা তুলে ধরেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্রের মাধ্যমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। সাদ্দাম হোসেন বা গাদ্দাফির কাছে পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাই তারা দু’জনেই নিহত হয়েছেন।
জনাথন ওয়াচটেল বলেন, রাশিয়া ও চীন চাইছে না যুদ্ধ হোক। তবে তারা উত্তর কোরিয়ার হাতে ভারি পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক এটাও চায় না। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ গর্ডন চ্যাং। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে লড়াই করতে হবে কিম জং উন ও উত্তর কোরিয়ার মিত্র চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যে হবে এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। সেই আলোচনায় জনগণকে জানাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে হবে এমন নয়। একই সঙ্গে বড় শক্তিধর চীন, এমন কি রাশিয়ার বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হতে পারে। ‘নিউক্লিয়ার শোডাউন’ বইয়ের লেখক গর্ডন চ্যাং। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে চীন ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা পূর্ব এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা সত্ত্বেও লড়াইয়ে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ নিতে পারে। আগস্টে বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে। বলেছে, যদি আগে উত্তর কোরিয়ায় আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্র তাহলে তারা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ অবলম্বন করবে।

আরও পড়ুনঃ   জেরুজালেম কার- ফিলিস্তিন নাকি ইসরাইলের!

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 7 =