সান মেমেস ছিল অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এক শ বছরের পুরোনো ঘর। ২০১৩ সালে তা গুঁড়িয়ে পাশেই নতুন ঘর বেঁধেছে স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের ক্লাবটি। নতুন এই স্টেডিয়ামের নামও ‘সান মেমেস’—যা গত চার বছর ধরেই ‘ধাঁধা’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য!

রিয়াল মাদ্রিদ-অ্যাথলেটিক বিলবাও লড়াইয়ের ইতিহাসে তেলমো জারার সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো (১৬ গোল)। কিন্তু বিলবাওয়ের নতুন ‘ঘর’ সান মেমেসে পা পড়লেই রিয়াল ফরোয়ার্ডের কী যেন হয়। গোল করতে ভুলে যান! আজ রাতেও ঠিক তাই ঘটল। ম্যাচের পুরো সময় মাঠে থেকেও গোল পাননি রোনালদো। বাজে ফর্ম কাটাতে প্রয়োজনীয় জয়ের খোঁজে মাঠে নেমে রিয়ালও গোলশূন্য ড্র করেছে বিলবাওয়ের সঙ্গে।

সান মেমেস রোনালদোর জন্য যেন-তেন ধাঁধা নয়, লা লিগায় বিলবাওয়ের এ মাঠই সবচেয়ে বেশি সংখ্যকবার (৫ ম্যাচ) গোল বঞ্চিত রাখল তাঁকে। অথচ, ম্যাচটা জিততে পর্তুগিজ তারকা আর করিম বেনজেমার দিকে তাকিয়ে ছিল রিয়াল। বিলবাওয়ের মাঠে শেষ দুই ম্যাচেই গোল করেছিলেন বেনজেমা। ফরাসি স্ট্রাইকারটি আজ ৮ মিনিটের মাথায় শুধু গোলপোস্ট কাঁপাতে পেরেছেন।

আক্রমণভাগে রোনালদো-বেনজেমার মধ্যেও তেমন কোনো বোঝাপড়া ছিল না। প্রথমার্ধে রোনালদো (১৩) এবং বেনজেমা (১০) মিলে মোট ২৩টি পাস খেলেছেন। কিন্তু এর মধ্যে দুই সতীর্থ একে-অপরকে কোনো পাস দেননি! মিডফিল্ডে ছিলেন লুকা মডরিচ আর টনি ক্রুসের মতো দুই অভিজ্ঞ। লা লিগায় নিজের ১৫০তম ম্যাচ খেলতে নেমে মডরিচ আলো ছড়ালেও বিলবাওয়ের গোলমুখ খুলতে পারেননি। তবে রিয়ালের গোলপোস্টে আস্থার প্রতীক হয়ে ছিলেন কেইলর নাভাস। স্বাগতিকদের দারুণ দুটি আক্রমণ রুখে দেন তিনি।

সেল্টা ভিগো আগের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ২-২ গোলে আটকে দেওয়ায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ছয়ে নামিয়ে আনার সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। প্রথমার্ধের ৬৭ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের জাল তাক করে ৯টি শট নেওয়ার পরিসংখ্যানই বলছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা মাঠে নেমেছিলেন জয়ের খিদে নিয়ে। কিন্তু বিরতির পর বিলবাওই বেশি ভালো খেলেছে। দারুণ কিছু আক্রমণ করেছিলেন ইনাকি উইলিয়ামস-রাউল গার্সিয়ারা।

গোল না পাওয়ার কারণেই হয়তো মাথা ঠিক রাখতে পারেননি রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। ৮৬ মিনিটে আদুরিজকে ফাউল করে তিনি মাঠ ছাড়েন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে। নাক ভেঙে নেওয়ার পর আজই প্রথম মুখে ‘মাস্ক’ পরে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু ‘মাস্ক’-এর উদ্বোধন মোটেও ভালো হলো না। লা লিগায় এ নিয়ে রেকর্ড ১৯বার লাল কার্ড দেখলেন রামোস। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে এটা ছিল তাঁর ২৪তম লাল কার্ড!

লা লিগায় এক মৌসুমে, একই কোচের অধীনে, প্রতিপক্ষের মাঠে রিয়াল সর্বশেষ টানা তিন ম্যাচে জয় বঞ্চিত ছিল ২০০৮-০৯ মৌসুমে। সে বার রিয়ালের কোচ ছিলেন হুনাদে রামোস। রিয়াল কোচ হিসেবে স্বপ্নের মতো শুরু করেও এবার রামোসের সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন জিদান। প্রতিপক্ষের মাঠে রিয়াল এ নিয়ে জয়বঞ্চিত রইল টানা তিন ম্যাচ (২ ড্র, ১হার)। বিলবাওয়ের মাঠে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় বার্সার সঙ্গে রিয়ালের পয়েন্ট ব্যবধান খুব বেশি কমেনি। ১৪ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বার্সার সঙ্গে ৮ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে চতুর্থ রিয়াল। সূত্র: বিবিসি, এএফপি

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − seven =