বিশ্বজুড়ে যৌন হয়রানির বিষয়টি যেমন নতুন নয়, তেমনি নতুন নয় এর জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করা। এমন মনমানসিকতাসম্পন্ন লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রায়ই যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নারীকে শুনতে হয়, ‘তখন (যৌন হয়রানির সময়) তোমার পোশাক কী ছিল?’

যৌন হয়রানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘নারীর পোশাক’কে দায়ী করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে কাজ করেছেন ভারতের সমাজকর্মী জেসমিন পাথেজা। এ জন্য তিনি হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের পোশাক সংগ্রহ করেন। এর ভিত্তিতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ওই নারীদের জীবনে ঘটে যাওয়া হয়রানির জন্য পোশাককে যেমন কোনোভাবে দায়ী করা যায় কি না, তেমনি দোষী মনে করা উচিত নয় ওই নারীদের।

বেঙ্গালুরুতে জেসমিন তাঁর বাড়ির ছোট্ট এক ঘরকে হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের দান করা পোশাক দিয়ে ভরে ফেলেছেন। বলা যায়, এটি যেন ছোটখাটো একটা জাদুঘর। সেখানে রাখা পোশাকগুলোতে চোখ বুলালে মনে হবে, এসব তো স্বাভাবিক পোশাক, যা আশপাশের নারীদের হরহামেশা পরতে দেখা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এখানে রাখা প্রতিটি পোশাকের আছে একটি করুণ কাহিনি।

জনসমাগমপূর্ণ স্থলে অশোভন ও কামুক মন্তব্য শোনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের সঙ্গে পরিচয় হওয়া নারীর জীবনে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। অনেক সময় ওই নারীকে শুনতে হয়, তিনি কি স্বল্পবসনা ছিলেন, তখন কি রাত ছিল, মদ্য পান করা ছিলেন, নাকি ওই পুরুষকে তিনি আশকারা দিয়েছিলেন? ভাবখানা এমন, যেন নারীটি এমনই চেয়েছিলেন। এ জন্যই জেসমিন তাঁর প্রকল্পের নাম দিয়েছেন, ‘আই নেভার আস্ক ফর ইট।’

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   মিশরে গির্জায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × four =