আবারো রোহিঙ্গা ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে ভয়াবহ সহিংসতা ও গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ফলে সেখানে মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ৮ই সেপ্টেম্বরের রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই সহিংসতা থেকে পালিয়ে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ৯ই সেপ্টেম্বর। ‘বাংলাদেশ হোস্টিং অব রোহিঙ্গা’ শীর্ষক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। এতে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। ওদিকে এর আগে ৮ই সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি। এ সময় তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন সাংবাদিকরা। তারা জানতে চান- রাখাইনের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কে? অবশ্যই সরকার, কিন্তু তা কি সেনা কমান্ডের অধীনে? রাখাইন কি বেসামরিক সরকারের কমান্ডের অধীনে? ওদিকে বিবৃতিতে হিদার নুয়ার্ট বলেন, গত ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস হামলা ও গণহারে গ্রাম পুড়িয়ে দেয়াসহ মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর ৮ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ঘোষণা করে, ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে পৌঁছেছে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। হিদার নুয়ার্ট আরো বলেন, এসব রোহিঙ্গাকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা জাতিসংঘ হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনসহ আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের ভিতরে ও বাইরে এ অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত বিপন্ন মানুষগুলোকে মানবিক সহায়তার জন্য প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তিনি বলেন, মানবিক এই সংকটে  বদান্যতা দেখিয়ে সাড়া দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করি আমরা। আক্রান্ত মানুষের কাছে বাংলাদেশ সহায়তা পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করতে যে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমরা তারও প্রশংসা করি। ওদিকে ৮ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি। তিনি পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ও পলিসি সমন্বয়ক। এ সময় ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মিয়ানমারের গুরুত্ব অত্যন্ত। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের অল্পবিস্তর জানাতে চাই। রাখাইনের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা মূল কতগুলো লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে সর্বাগ্রে আমরা যা করছি তা হলো, মানবিক সহায়তা পুনঃস্থাপন, যাতে দুর্ভোগে থাকা মানুষগুলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সহায়তা করতে পারে। রাখাইনে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে প্রকৃতপক্ষে যারা দুর্ভোগে আছে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া যাবে। রাখাইন দেশটির একটি কমপ্লিকেটেড বা জটিল অংশ। অন্যভাবে বলা যায়, রাখাইন রাজ্যটি নিজেই একটি জটিলতার পঙ্কিলে আবদ্ধ। সেখানে প্রকৃতপক্ষে দুর্ভোগে থাকা মানুষ রয়েছেন। তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন অন্যরা। আমরা রাখাইনে সাংবাদিকদের প্রবেশ পুনঃস্থাপিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে সেখানে সাংবাদিকরা প্রবেশ করে প্রকৃত চিত্র আরো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা, বেসামরিক সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, সাধারণ মানুষের চালানো হামলাসহ সব রকমের হামলার নিন্দা জানাই আমরা। মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কারণে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এমন ঘটনায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সব পক্ষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই উত্তেজনা প্রশমনে পদক্ষেপ নিতে। আমরা কর্তৃপক্ষ ও মিয়ানমারের অংশীদারদের কাছে আহ্বান জানাবো যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করা। এর আগের দিন হিদার নুয়ার্ট যেসব তথ্য জানিয়েছেন তার সঙ্গে আরো অল্প কিছু যুক্ত হয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্ত অতিক্রম করে যেসব মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের বিষয়ে আরো ভালোভাবে জানতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে (রোহিঙ্গাদের) যে সংখ্যা বলা হয়েছে বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। ফলে ২৫শে আগস্ট থেকে এই দেশত্যাগের ঘটনা উল্লেখ করার মতো। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, দুই লক্ষাধিক মানুষ দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে এসেছে। তবে সবচেয়ে কম জানা গেছে যাদের কথা তারা হলেন অভ্যন্তরীণভাবে ঘরবাড়ি হারানো মানুষ। এর মধ্যে শুধু রোহিঙ্গাই নন, আছেন জাতিগত রাখাইন ও অন্যান্য সংখ্যালঘু। ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি বলেন, মিয়ানমারে আমাদের রাষ্ট্রদূত ও রেঙ্গুনে তার টিমের মাধ্যমে মিয়ানমারের বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া আমরা অন্যান্য দাতা, অংশীদার, রেডক্রসের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে রাখাইনে মানবিক অপারেশনের দিকে ফোকাস করেছি। এছাড়া মানবিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব দেশ রোহিঙ্গাদের বহু বছর ধরে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এই সেবা ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এর প্রেক্ষিতে আমরা আপনাদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই। এরপরই শুরু হয় দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তাকে প্রথম প্রশ্ন করেন বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক ডেভ ক্লার্ক। এখানে সেই প্রশ্নোত্তর তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: এই কলের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মিয়ানমারে সম্প্রতি আংশিক নির্বাচিত শাসনে ফিরে গেছে। রাখাইনের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কে? অবশ্যই সরকার, কিন্তু তা কি সেনা কমান্ডের অধীনে? রাখাইন কি বেসামরিক সরকারের কমান্ডের অধীনে? নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো বাহিনী যদি গণহত্যা করে থাকে অথবা নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত নয় এমন শক্তির হামলা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যর্থতার জন্য কাকে দায়ী করা হবে?
ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি: প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ ডেভ। আমি মনে করি আপনি মিয়ানমার যেসব জটিলতায় রয়েছে সে বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। দেশটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারে ফিরেছে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এটা একটা বড় ব্যাপার। প্রকৃত পক্ষে প্রায় অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে এইটা সেখানে প্রথম বেসামরিক সরকার। দেশটি যে সমৃদ্ধি চায় তার একটি উত্তম প্রক্রিয়া চলেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বাস্তবতা হলো মিয়ানমার একটি সংবিধান পেয়েছে, যেখানে আছে নির্বাচিত সরকার। সেখানে সেনাবাহিনীকে কিছু কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে তাদের কোনো কোনো কর্তৃপক্ষের ভাল ভূমিকা আছে। তাই আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি নির্বাচিত বেসামরিক সরকার (যারা দেশের সার্বিক দায়িত্বে)-এর সঙ্গে। পাশাপাশি আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি সেনা কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। আমাদের বার্তা সঙ্গতিপূর্ণ। ২৫শে আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলায় এই সংকট সৃষ্টি। এ বিষয়ের জবাব দিচ্ছে তারা। তবে সাধারণ মানুষকে সেখানে নিরাপত্তা দেয়া উচিত নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের। পাশাপাশি সরকারি কাঠামোগুলোতে যে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়েও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। একই সময়ে সব কিছুই হওয়া উচিত মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী। আমরা বেসামরিক সরকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তাটিই পৌঁছে দিচ্ছি। নেক্সট কোয়েশ্চেন প্লিজ!
এ পর্যায়ে প্রশ্ন রাখতে দাঁড়ান বার্তা সংস্থা এপি’র ম্যাথিউ পেনিংটন। তিনি প্রশ্ন করেন- আপনি কি মনে করেন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড় আছে? কারণ, আন্তর্জাতিক মহল থেকে অসংখ্য নিন্দা জানানো হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বন্যা আসছেই। চলছেই সহিংসতা। এ অবস্থায় যেহেতু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অধিকার লঙ্ঘন করছে তাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কি কোনো অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি: আমি মনে করি না মিয়ানমারের প্রতি আমরা সম্পর্কের কারণে কোনো নমনীয়তা দেখাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে এটা হলো একটি অংশীদারিত্ব। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে আমরা সংলাপ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যা অত্যন্ত ব্যাপক। অংশীদার হিসেবে আমরা গণতন্ত্রের এই উত্তরণের সফলতায় সহায়তা করতে চাই। আমি আগেই বলেছি, এখন মিয়ানমারকে সঠিক পথে নিয়ে আনার জন্য এটা একটি উত্তম সুযোগ। সেখানে নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ- জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ, শান্তি- যা ১৯৪০ এর দশকে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর হারিয়ে গিয়েছিল, রয়েছে সাম্প্রদায়িক সংঘাত, রাখাইন সংকট। এটা একটি দীর্ঘ সময় ব্যাপ্ত সমস্যা। অনেক অনেক বছর আগের। এসব সমস্যা নতুন সরকারকে প্রথম দিন থেকেই আঁকড়ে ধরেছে। তাই আমাদের অংশীদারিত্ব হলো তাদের এসব সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা আমাদের উদ্বেগ জানাচ্ছি না। আমরা সমালোচনা করছি না। তাই আমরা এখন সহিংসতা ও উত্তেজনা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। অবরোধের বিষয়ে বলছেন! আমাদের অবরোধ সেখানে দুই দশক ধরে ছিল। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ফেরানো ও মানবাধিকারের উন্নতি। মিয়ানমারে একটি সফল নির্বাচন হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকারের বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়েছিল এ জন্য তাদের ওপর থেকে অবরোধের অনেকটাই আমরা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এর অর্থ এই নয় যে, তারা তাদের সব সমস্যা সমাধান করে ফেলছে। উন্নতি ঘটানোর এখনো অনেকটা বাকি আছে। কিন্তু অংশীদার হিসেবে আমরা এখন তাদেরকে উৎসাহিত করতে পারি, কাজকে সহজতর করতে পারি। তাদেরকে সাহায্য করতে পারি। রাখাইন রাজ্যের মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিতে আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। অনেক বিষয় আছে, যা মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী এবং আ                                                                                                                                    মরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, এক্ষেত্রে দ্রুত দৃষ্টি দিতে হবে, যা উত্তেজনা খতমে, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্র পুনঃস্থাপনে সহায়ক হয়। এরপর তার কাছে প্রশ্ন রাখেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ডেভিড ব্রানস্ট্রোম। তিনি জানতে চান, আপনি বলেছেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের অনেক কিছু করা উচিত। আপনি কি মনে করেন বেসামরিক নেত্রী হিসেবে অং সান সুচির আরো বেশি কথা বলা উচিত? মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তাতে তার উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত?
এ প্রশ্নের জবাবে ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি বলেন, সবার আগে এটা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, মিয়ানমার হলো বহু জাতির দেশ। এখানে রয়েছে কয়েকশত জাতি। স্বাধীনতা অর্জনের রয়েছে জটিল ও দীর্ঘ ইতিহাস। আধুনিক যুগে আসতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। বহু জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য হয়েছে। এ অঞ্চলে যত মানবিক ট্র্যাজেডি ঘটেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রাজেডির অন্যতম হলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা। এখানে যে শুধু জাতিগত সংখ্যালঘুরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এমন নয়। আমি আগেই বলেছি, রাখাইনে রাখাইন জাতি নিজেরা হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘু। এখানে বছরের পর বছর কোনো উন্নয়ন হয় না। অধিকার রয়েছে সীমিত। এর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গারা কথা বলেছে। মিয়ানমারের ভিতরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত যুগের পর যুগ। এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের। এ দিকটিতে নজর দেয়া দরকার। এক বছর আগে অং সান সুচি ও তার সরকার জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি রাখাইন কমিশন গঠন করে। ২৫শে আগস্ট রাখাইন কমিশন তার রিপোর্ট ও সুপারিশ প্রকাশ করে। সেদিনই ওই হামলা হয়।
ওই সব সুপারিশের বিষয়ে কান দিয়েছেন অং সান সুচি ও তার সরকার। এখন সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের উৎসাহ দিই আমরা। ওই কমিশন ৮০টিরও বেশি সুপারিশ করেছে। এর বেশির ভাগই রাখাইনকে কেন্দ্র করে। এর ফলেই এত সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ।
এরপর প্রশ্ন করেন সিবিএস নিউজের কিলি অ্যাটউড। তিনি প্রশ্ন করেন- আমি খুব কৌতূহলী। আপনি বলেছেন, আপনারা সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ পর্যন্ত আপনারা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন কি?  আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, আপনারা সুনির্দিষ্টভাবে মনে করছেন না যে, মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা মনে করছেন এরা রাখাইনের যে কোনো মানুষ?
ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি: ধন্যবাদ কিলি। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাতে আমাদের সম্পর্কের বিষয় ও ওই দেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিক এক অংশীদারিত্ব। রাজধানী ন্যাপিডর সঙ্গ সেই সম্পর্কের শুরুতে এক বছর আগে নভেম্বরে আমি যোগ দিয়েছিলাম রাষ্ট্রদূত মারসিয়েলের সঙ্গে। তাতে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের ২২ জন মন্ত্রী। তারা বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব। সেখানে সরকার ও সেনাবাহিনী অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলে। মিয়ানমারের সংবিধান সেনাবাহিনীকে উল্লেখযোগ্য কর্তৃত্ব দিয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। পার্লামেন্টে রয়েছে তাদের এক-চতুর্থাংশ আসন। রয়েছে একজন ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ। তারপরও সরকার মনে করে আরো সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে সুসংহত করা যাবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 + one =