জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় অভিযোগ হচ্ছে, ২০০১-০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া পরিচয় গোপন করে নিজেই প্রধান উদ্যোক্তা হয়ে ট্রাস্ট গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে এই ট্রাস্টের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। অর্থের উৎসও স্পষ্ট নয়। আর ট্রাস্টের নাম চ্যারিটেবল হলেও এর মাধ্যমে কোনো কল্যাণমূলক কাজ করা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষ এই অভিযোগ তুলে ধরে বলেছে, এটা দুদক আইনের ৫(২) ধারায় দণ্ডযোগ্য, যার সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর কারাদণ্ড। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন কেউ এটা করতে পারেন কি না। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, পারেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী একজন ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ এবং রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে শপথ গ্রহণকারী। তাঁর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো উদ্যোগেও যদি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নিবন্ধন দরকার হয়, তাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পরিচয় থাকতে হবে। আর অর্থ সংগ্রহের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া তাঁর জন্য অনৈতিক।
আসামিপক্ষের বক্তব্য: প্রধানমন্ত্রী হলে কি তাঁর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো জীবন থাকবে না? জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে রাষ্ট্রক্ষমতা প্রয়োগের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেও প্রধানমন্ত্রী ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ নন। আইন তা-ই বলে।
এই আইনি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষই আগামী দিনগুলোতে ব্যাখ্যা, পাল্টা ব্যাখ্যা আদালতে দেবে। গতকাল কেবল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্বের সূচনা হয়েছে। বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই মামলা শুনছেন। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় গোপন করে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে, ম্যানেজিং ট্রাস্টি হয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৪ সালের ২৬ অক্টোবর গুলশান সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ট্রাস্টের নিবন্ধনে কিংবা সোনালী ব্যাংকে ট্রাস্টের যে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় তাতেও প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় গোপন রাখা হয়।
মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া যত দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তত দিনই এই ট্রাস্টের জন্য অর্থ এসেছে। তারপর আর নয়। তার মানে, প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। মেট্রো মেকার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টকে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি আদালতে বলেছেন, তাঁরা কোনো টাকা দেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষে আদালতের নির্দেশে আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তিনি গতকাল যেটুকু বলেছেন তা খালেদা জিয়ার পক্ষেই বলেছেন। আজও তিনি বলবেন।
অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল আদালতে বেগম জিয়াকে অনেকটাই গম্ভীর দেখা গেছে। বিরতির সময় তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। রাষ্ট্রপক্ষ যখন তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছিলেন তিনি তখন আইনজীবী মোশাররফ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং মৃদু হাসেন।
এ মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন তাঁর সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম খান। এর মধ্যে হারিছ চৌধুরী পলাতক।

আরও পড়ুনঃ   মার্চে ১০ টাকা কেজি দরে চাল কর্মসূচি আবার চালু হচ্ছে : কামরুল

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − seven =