কখন কী হয়—গত বুধবার সন্ধ্যা থেকেই মানুষের মনে এমন অজানা শঙ্কা ছিল। চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশও ছিল থমথমে। খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামের আবাসন মেলাতেও। দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য মেলায় নানা ধরনের ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে বেশির ভাগ আবাসান প্রতিষ্ঠান।

 চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সিডিএ) আবদুচ ছালাম গতকাল দুপুরে রেডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন। মেলার আয়োজক আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। উদ্বোধনী দিনের দর্শকখরা কাটিয়ে আজ শুক্রবার থেকে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৮’ মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

এবার মেলায় ৪২টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ১০টি নির্মাণ উপকরণ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে মেলায় মোট ৫৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠান ২০০ প্রকল্প নিয়ে এসেছে। ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়াতে নানা ছাড় দেওয়া হচ্ছে মেলায়। ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় বিভিন্ন স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা নিজেদের প্রকল্প (ফ্ল্যাট) সম্পর্কে গতকাল বিস্তারিত তথ্য দিতে পেরেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। স্বাগত বক্তব্য দেন রিহ্যাবের সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী।

মেলায় ঢোকার মুখে আবাসন প্রতিষ্ঠান বিটিআইয়ের স্টল। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা জানান, মেলায় তাঁরা ১০টি প্রকল্প তুলে ধরছেন। খুলশী, হিলভিউ হাউজিং সোসাইটি, পাঁচলাইশ, নাসিরাবাদ, রহমতগঞ্জ, ওআর নিজাম রোড ও হালিশহরে এসব প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের ফ্ল্যাটের আয়তন ৭৫০ বর্গফুট থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৬৫৩ বর্গফুট।

বিটিআইয়ের হেড অব অপারেশন মো. মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ক্রেতাদের প্রথম চাওয়া থাকে সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং গুণগত মান। দুটো ক্ষেত্রেই শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারবে ক্রেতারা। তাদের কোনো প্রকল্প একদিনও দেরি হওয়ার নজির নেই বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ   ঈদ ছুটির পর হকারদের রাস্তা ছাড়তে হবে: মেয়র নাছির

 বিটিআইয়ের পাশের স্টলটি জুমাইরাহ হোল্ডিংস লিমিটেডের। নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে জুমাইরাহ ভালো করছে এমন প্রচারণা আছে আবাসন খাতে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা জানান, তাঁরা ১৭টি প্রকল্প গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। মেলা উপলক্ষে দুই শতাধিক অ্যাপার্টমেন্টের ১০টি প্রকল্প নিয়ে এসেছেন তাঁরা। এসব প্রকল্প ২০১৯-২০ সালে গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে তাঁদের প্রচারপত্রে। চকবাজারের জয়নগরে তাঁদের প্রকল্পের ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ৫ হাজার টাকা। আবার খুলশীতে বর্গফুটপ্রতি ১৫ হাজার টাকা।

জুমাইরাহ হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম সরওয়ার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, গুণগত মানের ক্ষেত্রে কখনোই আপস করেন না তাঁরা। মেলা উপলক্ষে শুধু এককালীন পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় রয়েছে।

আবাসন প্রতিষ্ঠান এএনজেড প্রপার্টিজ চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার প্রকল্পগুলোও তুলে ধরছে। নগরের হিলভিউ ও নাসিরাবাদে তাঁদের দুটি প্রকল্পের ফ্ল্যাট এখনই হস্তান্তরের উপযোগী বলে কর্মীরা জানান। এ ছাড়া পাঁচলাইশ, লালখানবাজার এবং আগ্রাবাদে তাঁদের আবাসন প্রকল্প রয়েছে।

এএনজেড প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মেলা উপলক্ষে পূর্ব নাসিরাবাদের একটি প্রকল্পে অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেলায় ক্রেতারা বুকিং দিলে বর্গফুটপ্রতি ৫০০ টাকা ছাড় পবে। নাসিরাবাদের প্রকল্পে ১ হাজার ৪৭৮ থেকে ১ হাজার ৯০১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।

নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড পাঁচটি প্রকল্প নিয়ে এসেছে মেলায়। উত্তর খুলশী, দক্ষিণ খুলশী, মেহেদীবাগ ও নাসিরাবাদে এসব প্রকল্পে বর্গফুটপ্রতি সাড়ে ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮০০ টাকায় ফ্ল্যাট পাওয়া যাচ্ছে।

 নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের চট্টগ্রামের হেড অব সেলস মো. নাজিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ফ্ল্যাটের গুণগত মানে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন না তাঁরা। এই বৈশিষ্ট্যই তাঁর প্রতিষ্ঠানকে অন্যদের চেয়ে পৃথক করেছে বলে দাবি করেন তিনি। মেলায় ও মেলা-পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কেউ নাভানার অ্যাপার্টমেন্ট বুকিং দিলে ওই অ্যাপার্টমেন্টের কিচেন কেবিনেট (রসুইঘর) সাজিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ   চট্টগ্রামে দুই ‘উগ্রবাদী’ আটক

এর আগে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম নগরে কোনো ভবন নির্মাণ করতে গেলে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র পেতে প্রচুর সময় লাগে। সেবার জন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে ছোটাছুটি করতে হয়। সব সেবা এক জায়গা থেকে যাতে পাওয়া যায়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সিডিএর প্রতি দাবি জানান তাঁরা।

পরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, রিহ্যাবের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি। সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সিডিএর সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই এসব সমাধান করা সম্ভব হবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 + two =