আমার ছেলেবেলায় যখন গ্রামে থাকতাম তখন ডাকযোগে প্রচুর ইস্তেহার আসত গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে। তাতে লিখা থাকত ‘রোজ কেয়ামত আসন্ন’। কোনো কোনো ইস্তেহারে প্রেরকের নাম থাকত কোনোটায় থাকত না। কিন্তু বিবরণটা ছিল একই। ইস্তেহারে বলা হতো যে, সম্প্রতি এই ইস্তেহার লেখক স্বপ্নে দেখেছেন রোজ কেয়ামতের দিনটি দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। তওবার দরজা শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে আপনারা নিজেরা এই ইস্তেহারটি নকল করে সকলের কাছে পাঠান এবং সকলকে সতর্ক ও সাবধান হওয়ার জন্য জরুরি তাগিদ দিন। গ্রামে অনেকেই এই ইস্তেহার (তখন ফটোকপিয়ার ছিল না) হাতে লিখে বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে বিতরণ করতেন।

এই বহু পুরনো দিনের কথাটি মনে পড়লো সম্প্রতি পশ্চিমা সামরিক সংস্থা ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটটেন বার্গের একটি জরুরি হুঁশিয়ারি শুনে। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ব আজ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন। একটি প্রজন্মের জন্য এতো বড় দুর্যোগ আর কখনো ঘনিয়ে আসেনি’। এটা আমার ছেলেবেলার শোনা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হুঁশিয়ারি নয়। এটা বর্তমান যুগের একটি শক্তিশালী সামরিক সংস্থার মহাপরিচালকের সুচিন্তিত সতর্কবাণী। মানুষ সহজেই এই সতর্কবাণীটি বিশ্বাস করবে। বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি এই সতর্কবাণীর অনুকূলেই সাক্ষ্য বহন করে। বিশ্বের একক শক্তিধর দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তির প্রেসিডেন্ট হওয়া বিশ্বশান্তির জন্য কত বিপজ্জনক, বিখ্যাত লেখক জন লে কেয়ার তার সাম্প্রতিক উপন্যাসে তার বয়ান দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে ট্রাম্পের উত্থান তাকে গত শতকে জার্মানিতে হিটলার ও তার নািসবাদের উত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। লে কেয়ারের এই উক্তি বর্তমান ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল সম্পর্কেও প্রযোজ্য। নািসবাদের নতুন হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে এই দুটি দেশে। ব্রিটেন এবং ফ্রান্সে নব্য ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে চাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। আফগানিস্তানে ট্রাম্পের যুদ্ধ সম্প্রসারণের নীতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতে পারে। যদি হয় তাহলে বাংলাদেশও সেই আগুন থেকে রক্ষা পাবে না। আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশ প্লাবনে জর্জরিত। এবার ভারতেও মহাপ্লাবন হয়েছে। মুম্বাইয়ের মতো শহর বন্যায় ডুবেছে। ফ্লোরিডা, মেক্সিকোসহ কয়েকটি অঞ্চলে যে প্রলয়ঙ্করী ঝড় হয়েছে তার বিপর্যয় অবর্ণনীয়। আমেরিকার মতো উন্নত দেশও এই দুর্যোগ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক দুর্যোগও কম নয়। ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের ধাক্কায় পাউন্ডের দর কমছে। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ বলেছেন ডলার, ইউরো স্থিতিশীলতা হারাতে পারে, এক কথায় গ্লোবাল কেপিটালিজম পৌনঃপুনিক সংকটের মুখোমুখি। এ সংকট এড়ানোর জন্য যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি দ্বারা সর্বত্র যুদ্ধের বিস্তার ঘটানোর চক্রান্ত চলছে। গত শতকের ত্রিশের দশকে এই ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার পটভূমিতে ইউরোপে ফ্যাসিবাদের জন্ম ও উত্থান ঘটেছিল এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সাতবছর ধরে চলেছিল মহাধ্বংসযজ্ঞ। বহু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে বর্তমান গ্লোবাল কেপিটালিজমের সংকটও নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে পারে। যদি তাতে বিশ্বব্যাপী সংঘাত সংঘর্ষ দেখা দেয় তাহলে এই আণবিক যুগে গোটা বিশ্বেরই আত্মরক্ষার কোনো উপায় থাকবে না।

বর্তমানের এই সংঘাত ও সংঘর্ষে সারাবিশ্বে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে, জাতিতে-জাতিতে বর্ণে ও গোত্রে যে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে তা প্রতিহত করা না গেলে মানবসভ্যতাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করা যাবে না। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে জেনস স্টলটটেন বার্গ যদি তার সতর্কবাণীটি উচ্চারণ করতেন তাহলে বিশ্ববাসীকে তিনি একটি সঠিক বিপদসংকেতই দিতেন। তিনি তা করেননি। তিনি এই বিপদসংকেত দিয়েছেন রাশিয়া যে একটি বিশাল সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে তাকে উপলক্ষ করে। সেই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া যে একটার পর একটা পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে তাকেও তিনি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করেন। জেনস স্টলটটেন বার্গ ১০ বছর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপর তিনি ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ওবামার যুদ্ধ সম্প্রসারণ না করার নীতিরও তিনি সমর্থক ছিলেন। এই অবস্থায় ওবামা পরবর্তী আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের আবার যুদ্ধসম্প্রসারণ নীতি, বর্ণবাদী নীতি এবং উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রস্তুতির মহা আশঙ্কাজনক দিক সম্পর্কে কোনো কথা না বলে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তার বিশ্বধ্বংসের আয়োজনের অভিযোগ তোলা কি উদ্দেশ্যমূলক মনে হয় না? তার বক্তব্য শুনে পশ্চিমা বিশ্বের একশ্রেণির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এমন মন্তব্য করেছেন, আমেরিকা যদি উত্তর কোরিয়ার উপর তার পরাক্রম জাহির করার জন্য একটি পারমাণবিক যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় সেই অপরাধ থেকে আমেরিকাকে মুক্ত করার জন্য এবং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে আগাম দায়ী করে রাখার উদ্দেশ্যে ন্যাটোর মহাসচিবের এই চাতুর্যপূর্ণ সতর্কবাণী। এই সতর্কবাণী বিশ্ববাসীকে রক্ষা করার জন্য নয়। বরং আমেরিকাকে অভিযোগমুক্ত রাখার জন্য। কারণ যুদ্ধ যদি বাঁধে তাহলে রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার জন্য বাঁধবে না। তারা আত্মরক্ষার তাগিদে যত সামরিক মহড়া করুক বা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালাক, আমেরিকা বা তার মিত্র দেশকে প্রথমেই আক্রমণ করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনার মতো বুদ্ধিহীনতার পরিচয় দেবে না। যদি যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে তা প্রথমে আমেরিকা তথা পশ্চিমা শিবির থেকে শুরু হবে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিমা শক্তির মিত্রপক্ষ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধ শুরু করে। ধীরে ধীরে ফাঁস হয় সারাবিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘিরে ৫০টি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল আমেরিকা। কমিউনিস্ট জুজু দমনের নামে সদ্য স্বাধীন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে চলে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো এবং তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠা। বিশ্বের সর্বত্র সামরিক শাসক ও ডিকটেটরদের আমেরিকা মদদ দিতে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার জন্য ন্যাটো, সিয়াটো, সেন্টো ইত্যাদি সামরিক জোট তৈরি করে। এই ক্রমাগত হুমকির মুখে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৈরি করে ওয়ারশ চুক্তি জোট। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নতুন রাশিয়া ওয়ারশ জোট ভেঙে দেয়। কিন্তু আমেরিকা বিশ্বে আর দুইটি পরাশক্তি না থাকা সত্ত্বেও ন্যাটো আর ভেঙে দেয়নি। রাশিয়াকে কোণঠাসা করে রাখার জন্য চালাতে থাকে রাশিয়াবিরোধী তত্পরতা। রাশিয়ার চারপাশের রাষ্ট্রগুলোকে (যা আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল) ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ইউক্রেনে সোভিয়েত সমর্থক সরকারকে সামরিক ষড়যন্ত্র দ্বারা উত্খাত করে। তার পেছনেও ছিল ন্যাটোর মদদ।

মস্কোতে মার্কিন তাঁবেদার ইয়ালেিসন সরকারের পতনের পর ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসেন। তিনি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করেন এবং আমেরিকার আগ্রাসী নীতি প্রতিরোধের পদক্ষেপ নেন। তিনি ওয়ারশ চুক্তিকে আর পুনরুজ্জীবিত করেননি। কিন্তু রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে আবার পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করে তোলেন। আমেরিকা ইরাকের সাদ্দাম ও লিবিয়ার গাদ্দাফীকে অন্যায় যুদ্ধে ক্ষমতা থেকে উত্খাত ও হত্যা করতে পেরেছে। কিন্তু ইরান ও সিরিয়ার সরকার উত্খাত করতে পারেনি। কারণ ততদিনে রাশিয়া শক্তি সঞ্চয় করে তাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে এবং এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি চীনও তাতে সমর্থন জানিয়েছে। ভাগ্যের কী পরিহাস, এতদিন আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে এবং তাদের মনোনীত সরকারকে ক্ষমতায় বসায়। আজ সেই আমেরিকার রাজনীতিতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার কাজে সাহায্য জুগিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের এখানে গাত্রদাহ এবং রাশিয়ার পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে আবার তারা তত্পরতায় লিপ্ত। ক্রিমিয়া, সিরিয়া এবং উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার জন্য পশ্চিমা বিশ্ব অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যবস্থা পর্যন্ত গ্রহণ করেছে। সামরিক প্রস্তুতিও চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল বিশ্বে একটি রোজ কেয়ামতের আভাস বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু আসল বিপদটি আসছে পশ্চিমে নব্য ফ্যাসিবাদের উত্থানের দ্বারা। সেটি তিনি আড়ালে ঢেকে রাখতে চাইছেন এবং উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাচ্ছেন। উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। একথা সত্য উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন দায়িত্বহীনভাবে এবং কিছুটা উসকানিমূলকভাবে একটার পর একটা শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে। এটা বিশ্বশান্তির জন্য অবশ্যই বিপজ্জনক কিন্তু গার্ডিয়ানের ভাষ্যমতে— ‘Kim Jong-Un Ruthless & Capricious but not a mad man.’ তিনি পাগল নন এবং যে বিপজ্জনক পথটি অনুসরণ করছেন তাও ক্রমাগত মার্কিন হুমকির ফলে। প্রথম কোরীয় যুদ্ধে আমেরিকার তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান উত্তর কোরিয়ায় আণবিক হামলার হুমকি দেয় এবং যুদ্ধে পরাজয় বরণের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি গেড়ে উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক বেষ্টনের ভেতরে ফেলে তার সরকার উত্খাতের প্রচেষ্টা চালায়। গুয়াম দ্বীপটি এই সামরিক তত্পরতার প্রধান ঘাঁটি। এই ক্রমাগত মার্কিন হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষার জন্য পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ শুরু করে। উত্তর কোরিয়াকে ভয় দেখানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘থাড’ মারণাস্ত্রের ঘাঁটি পর্যন্ত তৈরি করেছে আমেরিকা। উত্তর কোরিয়ার উপকূলে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মিলে নিয়মিত উসকানিমূলক সামরিক মহড়া চালানো হয়। এই তত্পরতার পাল্টা জবাব হিসেবে উত্তর কোরিয়া নিজেকে পারমাণবিক অস্ত্র সজ্জিত করাকেই একমাত্র উপায় ভাবছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে আমেরিকাকে দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ করে গুয়াম উপ-দ্বীপে তার সামরিক তত্পরতা চালানো বন্ধ করতে হবে। উত্তর কোরিয়াকে আশ্বস্ত করতে হবে তার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিসন্ধি তার নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ তাদের দেশের ঘাঁটিতে আমেরিকার সামরিক তত্পরতায় বিক্ষুব্ধ ও সিওল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রোজই রাস্তায় নামছে মার্কিনবিরোধী শ্লোগান কণ্ঠে নিয়ে—সে খবর চাপা দিয়ে আমেরিকা প্রচার চালাচ্ছে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণকে উত্তর কোরিয়ার হামলা থেকে রক্ষার জন্য এই সামরিক তত্পরতা চালাচ্ছে। আসলে তারা চায় সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান। কিন্তু আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে পঞ্চাশের দশকের প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের একই হুমকি। আমেরিকার শর্ত না মানলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। হয়ত এতদিনে ধ্বংস করে দেওয়া হতো যদি উত্তর কোরিয়ার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকত। কিম জং-উন বলেছেন ‘আমি আমেরিকাকে বিশ্বাস করে সাদ্দামের পরিণতি বরণ করতে চাই না।’

সন্দেহ নেই ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ প্রভৃতি যুদ্ধ আমেরিকাই প্রথম শুরু করে। দ্বিতীয় কোরীয় যুদ্ধ যদি বাঁধে তা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বারাই বাঁধবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে বাঁধছে না তার কারণ মার্কিন জেনারেলদের মনে এই ভীতি যে, এই যুদ্ধ একতরফা হবে না। দু’পক্ষই ধ্বংস হবে। কারো জয় পরাজয় হবে না। এই ভীতি থেকেই ট্রাম্প যদি তার আস্ফাালন বন্ধ করেন এবং চীন ও রাশিয়ার চাপে উত্তর কোরিয়াও ক্রমাগত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে বিরত হয় তাহলেই পৃথিবী সত্যি সত্যি একটি রোজ কেয়ামতের ভয়াবহ আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেতে পারে। কেবল মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের মতো বাঘ বাঘ চিত্কার করে কেউ রক্ষা পাবে না।
-আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   অসময়ে ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + eighteen =