পলাশ বড়–য়া, উখিয়া:  রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন, ধর্ষণ ও জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণী ও শিশু নিখোঁজের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিখোঁজ কিংবা অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিষয় নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় শংকিত হয়ে পড়েছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। এদিকে সংঘবদ্ধ পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালীন সেনাবাহিনীর ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহমান এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে বর্বরতা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে নারী, তরুণী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থা এক জরিপে জানায়, উখিয়ার ৬টি অস্থায়ী এবং টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে নতুন পুরাতন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

সূত্রে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা যুবতী ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৫৫ জনকে ফেরত পাওয়া গেছে। অবশিষ্টরা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উখিয়ার কুতুপালং, টিভি টাওয়ার পাহাড়, বালুখালী, মাইন্যার ঘোনা, তাজনিমার খলা, হাকিম পাড়া, থাইংখালী ও তেল খোলা, অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী শিশু পাচারকারীরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দামি গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ বিতরণের নামে তারা নারী শিশু টার্গেট করছে।হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। যে কোনো সময় নারী শিশু পাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজের নামে নারী-শিশু পাচার হচ্ছে। পাচারের বিষয়টি সরকারি-বেসরকারিভাবে জরিপের আওতায় আসেনি এখনো। তাই সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না।মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক সময় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প নারী ও শিশু পাচারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে পরিচিতি ছিল। মানবাধিকার সংস্থা বেশ কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে পাচার হওয়া অনেক রোহিঙ্গা নারী শিশুকে উদ্ধার করেছিল।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন নারী শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। এমনকি নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করতে মাইকিংসহ কন্টোলরুম খোলা হয়েছে। কেউ হারিয়ে গেলেই কুতুপালং ক্যাম্পে মাইকিং করা হয়।মাইকিং যোগে নিখোঁজ সংবাদ প্রচারে দায়িত্বপালনকারী নজির জানান, প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও শিশু নিখোঁজের খবর আমাদের মাইক যোগে প্রচার করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজারের অধিক নিখোঁজের মধ্যে ১৭৯ জন ছেলে ও ৭৬ জন মেয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবকগণ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের খুঁজে পাই। এখনো কোনো হদিস মেলেনি ৭৮৫ জনের।নারী শিশু পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও অর্থের লোভ দেখিয়ে অসহায় নির্যাতিত নারী শিশু রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করার এক ঘৃণ্য কাজে নেমে পড়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কঠোর নজরদারীর প্রয়োজন বলে দাবি সচেতন মহলের।

আরও পড়ুনঃ   ‘পা ধরে বলেছি কাউকে বলবোনা, বাংলাদেশে চলে যাব’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × four =