রোহিঙ্গা নিধনে সেনা অভিযান চলবে বলে গ্রামবাসীকে কয়েকদিন আগেই সতর্ক করেছিল রাখাইনের স্থানীয় প্রশাসকরা।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়েছে। শুধু তাই নয়,  মিয়ানমারের ইরাবতি সংবাদমাধ্যমে এক লেখায় জানানো হয়েছে, ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পুলিশ ও সেনা ফাঁড়িতে হামলার এক সপ্তাহ আগেই রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েন করেছিলেন সেনাপ্রধান মিন অং হদ্মাইং। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে পড়ে, সেনাবাহিনীর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

মান্দালয় শহরের বাসিন্দা ৪৭ বছরের ইন কিয়েন চোয়াং বলেন, গ্রাম প্রশাসকরা রোহিঙ্গা গ্রামবাসীকে একসঙ্গে জড়ো করে এবং জানায় তাদের গ্রাম শিগগিরই পুড়িয়ে দেওয়া হবে, তারা যেন গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। পারলে তারা তখনই যেন পাশের নদীর পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরের দিন গ্রামের দুই দিক থেকে ৫০ সেনা প্রবেশ করে, গ্রামের পাশের নদীর পাড়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দিকে ছুটে যায় তারা। তাদের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আতঙ্গে আর প্রাণ ভয়ে ছুটতে থাকে রোহিঙ্গারা। যারা সাঁতার জানে, তারা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ও পালায়। কিন্তু যারা সাঁতার জানে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী খুব কাছ থেকে তাদের গুলি করে হত্যা করে। অনেককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

রথেডং শহরের কাছের গ্রাম প্যান কায়াং। সেখানকার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে গ্রাম প্রশাসকের সঙ্গে সেনাবাহিনী আসে।  তার ভাষায়, তিনি (প্রশাসক) আমাদের আজ সকাল ১০টায় জানান, আমাদের গ্রাম ছেড়ে পালানো উচিত। কারণ সব কিছু আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। একটি পরিবার যখন তাদের জিনিসপত্র ঘোচাচ্ছিল ঠিক তখনই তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হলো। তখনই এই পরিবারের লোকজন আতঙ্কে সব কিছু ফেলে ছুটতে লাগল। পাশের ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা গ্রামবাসী এ ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন। তারা বলেন, সেনাবাহিনী ঘরবাড়িতে আগুন ধরাতে রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে।

এদিকে ইরাবতিতে এক লেখায় কলামিস্ট অং জাও বলেন, মুসলিম রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দল আরসা হামলা চালানোর এক সপ্তাহ আগেই রাখাইনে সেনা মোতায়েন করেন জেনারেল মিন অং হদ্মাইং। এ নিয়ে অং সান সু চি তো দূরের, দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়নি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − four =