প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর আনন্দে ভাসছে ইসরাইল। হতাশা থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে ফিলিস্তিন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তিতে আসতে হলে অবশ্যই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী মেনে নিয়ে তবেই অগ্রসর হতে হবে। কিন্তু ফিলিস্তিন এমনটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তারা অনেক আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি পুরো জেরুজালেম ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে কোনো সমঝোতা হবে না। তাই বুধবারও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের স্থায়ী রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, এই শহরকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সঙ্কট সমাধানে তার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে বেরিয়ে গেছেন। অন্যদিকে জর্ডান বলেছে, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরব গালফ স্টেটস ইন্সটিটিউটের হোসেন ইবিশ বলেছেন, খোলামনে বলছি, আমার মনে হয় এটা মারাত্মক এক বিপর্যয়কর বিষয়। পশ্চিম জেরুজালেম ও দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে কোনো অর্থপূর্ণ পার্থক্য করেন নি ট্রাম্প। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে এ ঘোষণার মাধ্যমে ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছেন ট্রাম্পÑ এমন মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনের যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে বুধবার রাতে যিশু খ্রিস্টের জন্মভূমি বেথলেহেমে ক্রিসমাসের লাইটিং বন্ধ করে রাখেন ফিলিস্তিনিরা। ওদিকে ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডানিয়েল কুরজার। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল ইস্যুতে তিনি (ট্রাম্প) পুরোপুরি ইসরাইলের পক্ষ নিতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ একটি মধ্যস্থাতাকারী হিসেবে যে ফিলিস্তিনিরা দেখবেন এটাও আর আশা করা যায় না। পোপ ফ্রাঁসিস জেরুজালেমের মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সতর্ক করেছে চীন ও রাশিয়া। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি পাবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × five =