সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ডিগ্রিরও নিচে। যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সারাদেশের মত শীতে কাবু সীতাকুণ্ডও। শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শীতের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। গত এক সপ্তাহে সীতাকুণ্ড বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জনেরও অধিক মানুষ। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। এর মধ্যে যারা দরিদ্র-অসহায় তারা নিরুপায় হয়ে এক কাপড়ে পার করছে শীত। তবে শীতার্তদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংঘটন। প্রতিদিনই বিতরণ করা হচ্ছে অসহায় মানুষদের কম্বলসহ বিভিন্ন শীত নিবারণ সামগ্রী।

গতকাল সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যায় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের সর্বোচ্ছ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আরো শোচনীয় অবস্থা নীলফামারীর সৈয়দপুর ও ডিমতলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহে সেখানে সোমবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১৯৬৮ সালের ৬ঠা ফেব্রুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এরপর ৫০ বছরে এই প্রথম এতো বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

গত কয়েকদিনে সীতাকুণ্ডে দেখা যায় হিমেল বাতাসে শীত থাকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এদিকে আবার বিকাল ৫টার পর থেকে থেকে সূর্যে অস্তে যাওয়া শুরু করলে আবারো শুরু হয় শীত। মোটামোটি পুরো দিনজুড়ে কম বেশি শীতের মধ্যে কাটাচ্ছে সীতাকুণ্ডবাসী। এদিকে যত রাত বাড়ে তত বাড়ে শীতের প্রকোপ।

বাড়বকুণ্ডের রবিউল হোসেন মিয়াজী জানান, আমার সন্তানের বয়স মাত্র ১ মাসের কাছাকাছি। ছেলের ঠাণ্ডাজনিত কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন ধরে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এখানে এসে দেখলাম শুধু আমার ছেলে না এরকম আরো অনেক শিশু একই সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। কিছুদিন ধরে শীত একটু বেশি পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ   লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং খুলশী'র ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং, খতনা  ক্যাম্প, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্কুল ব্যাগ বিতরণ

সীতাকুণ্ডের চাকুরিজীবী মোঃ রিপন জানান, আমি চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করি। ট্রেনে দৈনিক যাতায়াত করে থাকি। তাই ট্রেন ধরতে আমাকে বের হতে সাড়ে ৬টা থেকে ৭ টার মধ্যে। ঘুম থেকে উঠতে হয় আরো এক ঘণ্টা আগে। শীতের প্রকোপ এতো বেশি মনে হচ্ছে এতো সকাল সকাল ঘর থেকে বের হওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। তবুও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ছুটতে হবে গন্তব্যস্থলে।’

শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার মিম জানায়, ‘প্রতিদিন সকাল ৮টায় প্রাইভেট তাই আমাকে ঘর থেকে আরো প্রায় ১ ঘণ্টা আগে বের হতে হয়। এতো শীতের মধ্যেও প্রতিদিন প্রাইভেট করছি। কিছু তো আর করার নেই। তাছাড়া এটাতো সাময়িক, তাই কষ্ট তো একটু করতেই হবে।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × four =