প্রত্যেক বাবা-মায়ের তাদের সন্তানটি অতি আদরের। তাদের ভাল ভবিষ্যৎ ও সুখের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি তারা। কিন্তু তারপরেও ছেলে মেয়েদের বড় করার সময়টায় বেশ কিছু ভুল হয়ে যায়। আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলি অজান্তেই। যা করা একেবারেই ঠিক নয়। সন্তানকে সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ছেলে-মেয়ে বিভেদ করা যাবে না। তাই শুধু মেয়ে নয়, ভালো আচার- আচরণ ছেলেদেরও ছোটো থেকে শিখিয়ে দিতে হবে।

# ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রত্যেকেরই উচিত নিজের ঘরটাকে গুছিয়ে রাখা। ছোট থেকেই যদি সন্তানদের এটা শেখানো যায়, তাহলে আর ঘর অগোছালো হয় না। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখবে।

# খাদ্য আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জৈবিক চাহিদা। নিজের খাদ্যের ব্যবস্থা নিজেকে করাটাও ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মেয়ে নয়, ছেলেদের রান্না করা শেখাতে হবে। তাহলে ছেলে সন্তানটি নিজের রান্না নিজেই করতে পারবে, পরনির্ভরশীল হয়ে থাকবে না।

# ছোট থেকেই ছেলেদের একটা ধারণা মনে গেঁথে দেয়া হয়, সব কিছুর জন্য বাবা-মার থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। ওটা মেয়েদের কাজ। এমন ধারণা জন্মানোর পিছনে বাবা-মার অবদান অবশ্য কম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মেয়েদেরই খুব বেশি শাসনে রাখা হয়। এই ভুলটা করবেন না। মেয়েদের পাশাপাশি, ছেলেদেরও অনুমতি নিতে শেখান।

# পরিবারে মেয়েদের ঠিক যতটা যত্ন সহকারে অভিভাবকেরা আচার-আচরণ শেখান, বাড়ির ছেলেদের উপরেও এই বিষয়ে ছোট থেকেই সমান গুরুত্ব দিন। মহিলাদের সম্মান করা খুবই জরুরি। তাও ছোটো থেকেই শেখাতে থাকুন।

# শুধু মেয়ে সন্তান নয়, ছেলেদেরও নিজেদের খেয়াল নিতে শেখাবেন। কোন অনুষ্ঠানে কোন ধরনের পোশাক পরবে, কী ভাবে নিজেকে সাজিয়ে তুলবে, এটাও জানা জরুরি।

# ছেলে হয়ে কাঁদছিস— এমন কথা বাড়ির বড়দের প্রায়ই বলতে শোনা যায়। ছোট থেকে একথা শুনে শুনে শিশু মনে উল্টো প্রভাব পড়ে থাকে। তারা মনে করে, কান্না শুধু মেয়েদের, ছেলেদের জন্য নয়। এমন ধারণা ঠিক নয়। ছোটদের শেখান, কান্না আবেগের প্রকাশ মাত্র। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা যে কারো ক্ষেত্রে।

# শুধু মেয়েরা নন, ছোটবেলায় অনেক ছেলেও একই ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। তাই ছোট থেকে তাদেরও শেখান, এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা ঠিক কীভাবে করা প্রয়োজন।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 14 =