পর্দা নামলো ৯ দিনব্যাপি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। শনিবার উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি এ উৎসবের আয়োজন করে।
ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে তুরস্কের চলচ্চিত্র ‘জার’। আলোচিত এ ছবিটির নির্মাতা কাজিম ওজ’র।
জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন।
উৎসব আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কিশোওয়ার কামালের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
সমাপনী অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার প্রদান করা হয়। উৎসবে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৬৪টি দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এরমধ্যে ফিলিপাইনের ‘বোম্বা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এ্যলান দায়াজন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং ইরানী চলচ্চিত্র ‘তেবেস্তান-ই-দাগ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পারিনাজ ইয়াজ দায়ান ও মিনা সাদাতি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।
উৎসবে তুরস্কের ছবি ‘দাহা’র জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হন অনুর সায়লাক। ইরানের ছবি ‘হোয়াইট ব্রিজ’ শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ চলচ্চিত্র (পরিচালক আলী গাভিতান), শর্ট এন্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম বিভাগে স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে খন্দকার সুমনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পৌনঃপুনিক’।
শ্রেষ্ঠ ছবি ‘জার’ এর পরিচালক ছবির কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, দাদীর মৃত্যুর পর তার কাছে শোনা গল্প থেকে নিজের নিজের অতীত খুঁজতে নিউ ইয়র্ক থেকে কুর্দিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করে তরুণ জ্যান। দীর্ঘ জার্নির নানা ঘটন-অঘটন নিয়েই সিনেমা ‘জার’।
‘পৌনঃপুনিক’ এর পরিচালক খন্দকার সুমন জানান, সমাজের অবদমিত অধ্যায়ের অস্পৃশ্য নারীর দ্রোহের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘পৌনঃপুনিক’। মানবিক সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্খায় প্রতিনিয়ত যে লড়াই চলছে আমাদের সমাজে, সে লড়াইয়ের কিছু কিছু অংশ আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অনেক সময় সচেতনভাবে উপেক্ষা করতে চাই কিছু লড়াইয়ের গল্পকেও। সমাজের ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাস করে সেই মানুষগুলোও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে, সামিল হয় লড়াইয়ে। উপেক্ষিত সেই লড়াইয়ের গল্পই ‘পৌনঃপুনিক’।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য দেশের তালিকায় আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল, চেক রিপাবলিক, মাদাগাস্কার, থাইল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া, সার্বিয়া, তুর্কি, স্পেন, জর্ডান প্যালেস্টাইনসহ আরো অনেক দেশ রয়েছে।
ষোড়শ এ উৎসবে এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগ, রেস্ট্রোস্পেক্টিভ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, উইমেন ফিল্ম মেকার সেশনসহ শর্ট এ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট এ আটটি ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের বিজয়ীকে এ বছর এক লক্ষ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ চিত্র গ্রাহক ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্যও ছিল পৃথক পুরষ্কার।
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৭৭ সাল থেকে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলেও ১৯৯২ সাল থেকে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় আয়োজন করে চলেছে দেশের সর্ববৃহৎ এ চলচ্চিত্র উৎসব। পূর্বে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব পরিচালিত হলেও গতবছর থেকে উৎসবটি প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় উৎসবের আয়োজক কমিটি।

আরও পড়ুনঃ   অন্তরঙ্গ দৃশ্যের অভিনয়ে সংযম হারিয়ে কেলেঙ্কারি করেছেন যে তারকারা

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + 7 =