আবু আজাদ:

কাতারের ওপর অযৌক্তিক অবরোধ আরোপ করা প্রতিবেশী দেশগুলো সংকট নিরসনে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের শুরা কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।

কাতারের আমির বলেন, ‘আমি সবসময় স্বচ্ছতার সঙ্গে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি সবসময় বলেছি, সবার সার্বভৌমত্ব ও প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’

সেসময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরকে অভিযুক্ত করে কাতারের আমির আরও বলেন, দেশগুলো সঙ্কট সমাধানের ব্যাপারে কোনো আলোচনা না করে চুপচাপ রয়েছে। তারা চলমান সংকটের কোনো সমাধান চায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার’ এবং রিয়াদের আঞ্চলিক চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে এনে গত ৫ জুন সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশরসহ কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ পরিবহন যোগাযোগ ছিন্ন করে। এতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে কাতারের অর্থনীতি।

এ ছাড়া এ চারটি দেশ দুই সপ্তাহের মধ্যে কাতারের সকল নাগরিককে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে দেশগুলো কাতারে থাকা তাদের দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠায় এবং সেখানে থাকা তাদের নাগরিকদেরকে কাতার ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। দেশগুলোর এমন অবরোধে বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাতার।

অপরদিকে এ সব দেশ থেকেই কাতার প্রধানত খাদ্য ও নির্মাণ সামগ্রী আমদানি করত। হঠাৎ সম্পর্ক ছিন্ন করার ফলে কাতারের মার্কেটগুলোতে খাদ্যের সঙ্কট দেখা দেওয়ায় দেশটির বন্ধু রাষ্ট্র তুরস্ক, ইরান এবং মরক্কো কয়েক মাস ধরে বিমানযোগে কাতারে খাদ্য পাঠাচ্ছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − four =