আরিফুল ইসলাম: 

তিন মাস ধরে চলা সংলাপের সার্বিক অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ইসির ভারপ্রপ্ত সচিব জানান, তিন মাস ধরে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, পর‌্যবেক্ষক, নারী নেত্রী, সাবেকদের সঙ্গে ‘সফলতার’ সঙ্গে সংলাপ করতে পেরে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আত্মবিশ্বাস ও আস্থা বেড়েছে। সেই সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার পথ আবহও তৈরি হয়েছে।

“সবার সুপারিশ একীভূত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের। সিইসি মহোদয় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী দিক নির্দেশনা ও করণীয় তুলে ধরবেন বৃহস্পতিবার। এসময় চার নির্বাচন কমিশনাররাও থাকবেন।” প্রধান তিন দলে মতানৈক্য নির্বাচনকালীন সরকার, বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন, সীমানা পুননির্ধারণ, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ও না ভোট চালু নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত এসেছে সব থেকে বেশি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো কথাই বলে নি। বিএনপি চায় সহায়ক সরকার, জাতীয় পার্টি চায় সংসদ ভেঙে অন্তবর্তীকালীন সরকার।

সেনা মোতায়েন নিয়ে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে’র কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিচারিক ক্ষমতাসহ দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় পার্টিও সেনা চায়।
বর্তমান সীমানা বহাল চায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি চায় দেড়যুগ আগের সীমানা আর জাতীয় পার্টি ভোটারের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করতে বলেছে। ইভিএম ও না ভোট নিয়েও তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান।

১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়ে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনকে জন প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মত দিয়েছে পর্যবেক্ষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চ্যালেঞ্জ হল কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো এবং ডিসেম্বরের শেষে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সংলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নবম সংসদ নির্বাচন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলছেন, সংলাপে ইসির এখতিয়ার ও এখতিয়ারের বাইরের বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে হবে। এমন কিছু বিষয় রয়েছে ইসির করার কিছুই নেই। বর্তমান ইসির সামনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে শামসুল হুদা বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু করা ইসি একার পক্ষে সম্ভব নয়। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোরও সুষ্ঠু করার জন্যে দায়িত্ব আছে। ইসিকে এখন কথা ও কাজে-কর্মে ফেয়ারনেস দেখাতে হবে, যাতে আস্থা নষ্ট না হয়। কিছুটা আস্থা তো হয়েছে, এটা ধারণ করতে হবে।”

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × one =