কবিতা লক্ষ্মী। এই নাম দক্ষিণী টেলিভিশন জগতে যথেষ্টই পরিচিত নাম। ১৯৯৩-এ মালায়লম টেলিভিশনের জনপ্রিয় ফ্যামিলি ড্রামা ‘স্ত্রীধনাম’-এ শান্তা চরিত্রে অভিনয় করে কবিতা লক্ষ্মী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

সেই অভিনেত্রীকেই সম্প্রতি রাস্তায় ধোসা বিক্রি করতে দেখা যায়। তাঁর এক ভক্ত কবিতা লক্ষ্মীকে দেখে চিনতে পারেন। আর তিনিই ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করলে সেই ভিডিও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ।

কিন্তু কেন এমন হাল হল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবিতার?

খবর চাউর হওয়ার পর মনোরমা অনলাইন নামে এক ওয়েবসাইটে কবিতা তাঁর এই ট্র্যাজিক পরিণতির কথা জানান। কবিতা সিঙ্গল মাদার। তাঁর এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

ওই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কিছুদিন আগে কবিতাকে এক ট্রাভেল এজেন্সি ঠকায়। তিনি ওই এজেন্সির মাধ্যমে তাঁর ছেলে কে ৪ বছরের জন্য ইংল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

ছেলের পড়াশোনার খরচ প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা। কবিতার ছেলেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ঘণ্টায় ১০ পাউন্ডের মতো পার্ট টাইম চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওই সংস্থা।

ছেলের কেরিয়ারের কথা ভেবে ছেলেকে বিদেশে পাঠান কবিতা। সে সময় এজেন্সিকে ১ লক্ষ টাকা দেন।

তবে কবিতার অভিযোগ ওই ট্রাভেল এজেন্সি তাঁকে ঠকিয়েছে। কোনও কিছুই পরিকল্পনা মাফিক হয়নি। তাঁর ছেলেকে তেমন কোনও ভাল চাকরির ব্যবস্থা করেনি ওই এজেন্সি।

অথচ, তাঁকে ৬ মাসের মধ্যে ছেলের বার্ষিক ফি জমা দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই ধোসার দোকান দিয়েছেন কবিতা।

অভিনেত্রী আরও জানান, এ সমস্ত কথা জানা থাকলে তিনি তাঁর ছেলেকে বিদেশে কখনওই পাঠাতেন না। তবে প্রথমে তিনি রোজগারের জন্য গ্রানাইট-এর একটা শো-রুমও খুলেছিলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে দোকান চালানোর চেষ্টায় ছিলেন। তবে ঋণের ব্যবস্থা না হাওয়ায় দোকান বন্ধ করতে হয়। তাই বাধ্য হয়েই তিনি ধোসার দোকান দেন।

তবে কবিতা বলেন, “ঈশ্বরের কৃপায় বর্তমানে দুটি সিরিয়ালের কাজ পেয়েছি।”

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটি

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 18 =