সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য এক দম্পতি তিন বছর বয়সী মেয়ে ও বিপুল সম্পত্তি ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের মধ্যপ্রদেশে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন ওই দম্পতির মেয়েটির কি হবে—তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সুমিত রাঠোর (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী অনামিকা (৩৪) সন্ন্যাসী হওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা জৈন ধর্মের অনুসারী। মধ্যপ্রদেশের নিমাচে থাকেন তাঁরা। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ের নাম ইভিয়া। আগামী সোমবার তাঁদের দীক্ষা গ্রহণ করার কথা। জৈন ধর্মমতে, দীক্ষা হলো সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণের প্রথম পদক্ষেপ।

সুমিত ও অনামিকার বিয়ে হয় চার বছর আগে। সম্প্রতি তাঁরা সন্ন্যাস গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। অনামিকার বাবা অশোক চান্ডালিয়া বলেছেন, নাতনিকে লালন-পালনের ভার তিনি নেবেন। অশোক বলেন, ‘আমি আমার নাতনিকে পালন করব। সুমিত ও অনামিকাকে তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই। ধর্ম ডাক দিলে কাউকেই থামানো যায় না।’

সুমিত ও অনামিকার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনেরা অবশ্য তাঁদের সন্ন্যাস গ্রহণের সিদ্ধান্তে খুব একটা অবাক হননি। সুমিতের বাবা রাজেন্দ্র সিং রাঠোর একটি কারখানার মালিক। তাঁর কারখানায় সিমেন্টের বস্তা তৈরি করা হয়। রাজেন্দ্র বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে এই সিদ্ধান্ত তারা নেবে, সেটি ভাবতে পারিনি।’

ইভিয়ার বয়স যখন সবে আট মাস, তখনই সুমিত ও অনামিকা ভবিষ্যতে সন্ন্যাসী হওয়ার কথা ভেবেছিলেন। এ জন্য তাঁরা পৃথকভাবেও থাকতে শুরু করেছিলেন।

সুমিতের ভাই সন্দ্বীপ বলেন, ‘সুখী হওয়ার জন্য একজন মানুষ যা যা চাইতে পারে, তার সবই সুমিতের ছিল। তাঁর সম্পদের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি রুপির কাছাকাছি। স্ত্রী ও সন্তানও আছে। তাঁর এমন সিদ্ধান্তে আমরা স্তম্ভিত।’

নিমাচের জৈন সম্প্রদায়ের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি প্রকাশ ভান্ডারি বলেন, ‘এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। প্রথমবারের মতো এত তরুণ কোনো দম্পতি দীক্ষা নিলেন। তা-ও আবার সন্তান ছেড়ে সন্ন্যাসের পথ নিলেন তাঁরা।’

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে জৈন সম্প্রদায়ের আরেক কিশোর সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করায় ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ভারশিল শাহ (১৭) নামের গুজরাটের ওই কিশোর গত জুনে সন্ন্যাসী হয়েছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 4 =