রোহিঙ্গাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিক অধিকারে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া সমস্যার একমাত্র সমাধান। তবে তা যুদ্ধ বা মিয়ানমারের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারকে রাজি করানো।

রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, সমস্যার সমাধানও মিয়ানমারে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে নতুন করে আশ্রয় দিয়েছে। আরও কয়েক লাখ
রোহিঙ্গা তিন দশক ধরে বাংলাদেশে রয়েছেন। বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে; তা সাময়িক সমাধান।

স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া। মিয়ানমার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের যে প্রক্রিয়ায় বিতাড়িত করছে, বাংলাদেশেকে সমস্যায় ফেলছে, তা যুদ্ধের উস্কানি। কিন্তু যুদ্ধ এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে। মিয়ানমার বাংলাদেশের আহ্বানে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে, সে সম্ভাবনা আর নেই। তাই দেশটিকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন রয়েছে মিয়ানমারের প্রতি। এ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও ভালো। এ সম্পর্ককে কাজে লাগাতে হবে মিয়ানমারের চাপ তৈরিতে। যতদূর জানি, বাংলাদেশ এ চেষ্টা করছে। রাশিয়া, চীন ও ভারতকে পাশে

পাওয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এ প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করতে হবে।
রাখাইন রাজ্যে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, রোহিঙ্গাদের প্রতি যে অমানবিক আচরণ মিয়ানমার করছে, তা তুলে ধরতে হবে বিশ্ব বিবেকের সামনে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ দেশ রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিক্রিয়া যেন আরও তীব্র হয়, বাংলাদেশকে সে চেষ্টা করতে হবে। বিশ্ববাসী যেন নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

 মুন্সি ফয়েজ আহমেদ
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × two =