নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচেন সেনা বাহিনী মোতায়েন মোতায়েনেরও দাবি জানান বিএনপি নেত্রী। এ সময় ভোটে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার না করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এই জনসভা হয়। রোববার (১২ নভেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এই জনসভায় বেলা ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বেলা ২ টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে জনসভায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্নার আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অীধনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। যেই নির্বাচন মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে এবং তাদের ভোট তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্র্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষকের ভোটে তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নাই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারন তারা জনগণকে ভয় পায়।’

“আপনারা যদি জনগণের পাল বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।”

এ সময় ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনার সভা করেন আমরাও করছি দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করেন খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝে মাঝে সত্য কথা বলেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। তবে আপনাদের শুদ্ধ করবো। যে খারাপ কাজ করেছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সেজন্যই আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনের আমাদের কিছু কথা ইসির সংষ্কারের জন্য দিয়ে এসেছি। বলেছি যদি সুষ্ঠু নিবাচন অবাধ করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না।’

ইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতয়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকতে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। হাসিনার গুন্ডাবাহিনীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষকে খুন করছে। সেনা না দিলে হাসিনার গুন্ডা বাহিনী কেন্দ্র দখল করে অত্যাচার চালাবে। এদেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে জিয়াকে ভুলে নাই। তিনি আছেন মানুষের মনে।’

খালেদা জিয়া বলেন,আজকে দেশে বিচার বলে কিছু নেই। বিচারবিভাগ বলতে কিছু নাই। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দিদেশে এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে চাপ দিয়ে পদক্যাগ পত্র নিয়ে আসা হয়। তিনি চেয়েছেলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু সত্য করা বলেছেন। তারা নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, এখন উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

সরকারি চাকুরিজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সরকার হয়তো আপনাদের বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের চাকরি যাবে মামলা হয়রানি শিকার হতে হবে। কিন্তু না। আমরা আগেই বলেছি আমার হিংসাত্মক রাজনীতি করি না। সরকারি আদেশ নিষেধ মেনে চলাই আপনাদের দায়িত্ব। আমরা দেখবো সরকারি চাকরিতে কে কতটা যোগ্য। সেখানে বিএনপি বা আ লীগ বলতে কিছু নেই। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতের তাদের চাকরির পদোন্নতি হবে। আপনারা নির্ধিদ্বায় কাজ করতে পারেন। খালেদা জিয়া বলেন, ৭ নভেম্বর আমরা সামবেশ করতে চেয়েছিলাম তারা দেয়নি। জনসভার অনুমতি তারা দিয়েছে কিন্তু জনসভা যাতে সফল না হয়, জনগণ যাতে আসতে না পারে সেজন্য কত রকমের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।’

প্রতিবছর ৭ নভেম্বর দিবসটি পালন করে বিএনপি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × two =