সরকার সর্বনাশা নীতি অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার সারাদেশকে গ্রাস বরতে সর্বনাশা নীতি অবলম্বন করেছে। এই নীতির তাৎপর্য হচ্ছে হুকুমবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অস্তিত্বের চিরদিনের জন্য অবসান ঘটানো। দিন যতোই অতিবাহিত হচ্ছে ভোটারবিহীন সরকারের জিঘাংসার মাত্রা ততোই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এই সরকার বিরোধীদল দমনে হয়রানী, জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ইত্যাদিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

খালেদা জিয়া বলেন, ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা সরকারের জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে। মানুষের প্রতিবাদী স্রোত যেন ক্ষমতার মসনদের দিকে ধেয়ে না আসে। এই লক্ষ্য পূরণে তৈমুর আলম খন্দকারের মতো একজন প্রাজ্ঞ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারুণ্যের শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য ইয়াসিন আলীর মতো যুবকদেরও কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নিরুদ্দেশ করে রাখারই মহাপরিকল্পনা। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান স্বীকৃত সকল রাজনৈতিক অধিকার থেকে এখন বঞ্চিত। দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র চিহ্ন নেই। মৌলিক ও মানবাধিকার বর্তমান সরকার আগেই ভূলুন্ঠিত করেছে। গণমাধ্যম এখন পরাধীন। আইন-আদালতও এখন শাসকগোষ্ঠীর মুখাপেক্ষী। শাসকগোষ্ঠী দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক কর্মী-নেতারা ছাড়াও দেশের কোন মানুষই এখন নিজেদের নিরাপদবোধ করছেন না। তিনি তৈমুর আলম খন্দকার ও ইয়াসিন আলীসহ সারাদেশে প্রতিদিন যে গণগ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে- তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহবান জানান। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরেণ্য আইনজীবী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টিপু ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীনকে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন। এদিকে ঐতিহাসিক গণঅভ্যূত্থান দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানের তাৎপর্য অপরিসীম। এ দিবস আমাদের গণতন্ত্র ও স্বাধীকার অর্জনের চেতনাকে শাণিত করে এবং সকল অন্যায় অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। কারন এখন আবারও একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন কায়েম, গণতন্ত্রকে হত্যা ও বাক, ব্যক্তি ও চিন্তার স্বাধীনতা এখন গুম করে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   ইকোনমিস্টের গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ ধাপ পিছিয়েছে

সূত্র ঃ মানবজমিন

 

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven + nineteen =