সাতক্ষীরা শহরে দশম শ্রেণির ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের এক সহপাঠী আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের বকচরা বাইপাস সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ছাত্রের নাম সাকিব হোসেন (১৬)। সে শহরের পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলামের একমাত্র সন্তান। আহত ছাত্রের নাম রাশেদুল ইসলাম। সে একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির ছাত্র ও শহরের রসুলপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাশেদুল ইসলাম বলছে, সাকিব, সামিউজ্জামান ও সে—তিন বন্ধু মিলে গতকাল সন্ধ্যায় বকচরা মাদ্রাসায় মাহফিল শুনতে যায়। সেখানে শহরের কামালনগর কলোনির আব্দুল কাদের ও শান্তর সঙ্গে সাকিবের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা মিটে যায়। রাত ১০টার দিকে তারা তিন বন্ধু বাড়ি ফিরে আসছিল। পথে বাইপাস সড়কে কাদের ও শান্তর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লাঠি হাতে তিন বন্ধুকে আটকায়। এ সময় তাদের মধ্যে কেউ একজন একটি মেয়ের নাম উল্লেখ করে বলে, ‘ওই মেয়েকে আমি ভালবাসি, তুই ওর দিকে তাকাস!’ এই বলেই সাকিবকে তারা লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। এ সময় রাশেদুল থামাতে গেলে তাকেও তারা মারতে থাকে। একপর্যায়ে সাকিব লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সাকিব ও তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

নিহত সাকিবের সহপাঠী খান মাজেদুর রহমান ও রিজবি রেজওয়ানের তথ্যমতে, সাকিব ভদ্র ছেলে ছিল। সে কারও সঙ্গে কখনো বিরোধে জড়াত না।

জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা পরিমল কুমার বিশ্বাস জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে সাকিব ও রাসেদকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সাকিক আগেই মারা গেছে। রাশেদকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

আরও পড়ুনঃ   স্বেচ্ছা মৃত্যু অনুমোদন করল অস্ট্রেলিয়া

সাকিবের বাবা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সরশকাটি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত কনস্টেবল নজরুল ইসলাম ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, সাকিব তাঁর একমাত্র সন্তান। তাঁর ছেলের সম্পর্কে বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে কেউ কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। তার ছেলে যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে তিনি কি একবার শাসন করারও সুযোগ পেতে পারেন না? তিনি এ বিচার কার কাছে চাইবেন—প্রশ্ন করেন তিনি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুফ আহমেদ জানান, একজন স্কুলছাত্রীসহ ছয়জনকে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। রাতেই ছাত্রীকে তার অভিভাবকের জিম্মায় দিয়েছেন। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − 10 =