খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিবাদে প্রথম দিন বিক্ষোভ করতে ঢাকার রাস্তায় নেমেই পুলিশের মার খেয়েছিলেন বিএনপির কর্মীরা। গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির প্রতিবাদ সভা করতেই পারেনি। তার আগেই মিছিল নিয়ে বের হলে তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

ঢাকার মতো অনেক জেলায়ই পুলিশের বাধার কারণে এই কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। আটক করা হয়েছে শতাধিক জনকে। কিছু কিছু স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশ বেষ্টনীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে তারা।

এদিকে গতকাল নতুন করে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে আছে কাল সোমবার সারা দেশে মানববন্ধন, মঙ্গলবার অবস্থান, বুধবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অনশন। গতকাল বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ‍রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অবস্থান কর্মসূচি হবে এক ঘণ্টা। ঢাকার এই কর্মসূচির সময় ও স্থান পরে জানানো হবে। জেলাগুলো সুবিধামতো সময়ে কর্মসূচি পালন করবে।

‍রুহুল কবির রিজভী বলেন, গতকাল কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লাহ, সাবেক যুবদল নেতা মিজানুর রহমান, অলিউদ্দিনসহ ৫০ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ১৩ জন, নেত্রকোনায় ৫ জন, পিরোজপুরে ৩ জন, টাঙ্গাইলে ৬ জন, ফেনীতে ২ জন, কুমিল্লায় ১১ জন, নাটোরে ১৫ জন, ভোলায় ১ জন, নড়াইলে ১৬ জন, চট্টগ্রাম উত্তর ও গাইবান্ধায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রিজভীর দাবি, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


ঢাকায় মিছিল, ধাওয়া

গতকাল বেলা সোয়া একটার দিকে পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টের গলি থেকে একটি বড় মিছিল বের করে বিএনপি। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এর নেতৃত্ব দেন। মিছিলে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী ছিলেন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়ক দিয়ে দৈনিক বাংলা মোড় পার হয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ফকিরাপুলের পানির ট্যাংকের কাছাকাছি গেলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুনঃ   নির্বাচন ঠেকাতে মাঠে নামলে জনগণই প্রতিহত করবে : প্রধানমন্ত্রী

একই সময়ে পল্টন থেকে আরেকটি মিছিল বিজয়নগর হয়ে নয়াপল্টনের দিকে যাত্রা শুরু করে। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ ও মহানগর নেতা কাজী আবুল বাশার। মিছিলটি বিজয়নগর পানির ট্যাংকের কাছ পর্যন্ত গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে নবী উল্লাহসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

পল্টন থানার পরিদর্শক (পরিচালন) আবু সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল তাঁরা ওই এলাকা থেকে আটজনকে আটক করেছেন।

ডিএসসিসির কর্মচারী আটক

বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর বিজয় নগর এলাকা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২-এর বৈদ্যুতিক বিভাগের দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (মাস্টাররোল) কর্মচারী জামাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

ডিএসসিসির অঞ্চল-২-এর বৈদ্যুতিক বিভাগের দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জানামতে, বৈদ্যুতিক সাহায্যকারী জামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি পরিবার নিয়ে ফকিরেরপুল এলাকায় থাকেন। পরিবারের খরচ মেটাতে তাঁর এক ভাইকে নিয়ে ছুটির দিনে ফুটপাতে হকারি করেন। পুলিশ কেন তাঁকে আটক করল, তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

রাজধানীর বাইরে গ্রেপ্তার আরও ১০০

শুক্রবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে আট জেলায় আরও ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজবাড়ীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আফসার আলী সরদার। ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ৬৯ জনকে। নেত্রকোনায় জেলা মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল থেকে গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফা জেসমিন, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজা ইসলামসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনসহ চাঁদপুরে আটক হয়েছেন ১৭ জন। রংপুর, মৌলভীবাজার ও ঢাকার ধামরাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুজন করে।

আরও পড়ুনঃ   ‘আদালতের রায়ে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমরাও হতাশ’

গাজীপুরে গত বৃহস্পতিবার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির ৬৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল-সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশের বাধায় তা অনেক জায়গায় করতে পারেনি বিএনপি। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও পিরোজপুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে পটুয়াখালীতে ঝটিকা মিছিল হয়। যশোরে খণ্ড মিছিল করেছে ছাত্রদল ও যুবদল। আর মিছিল না করতে পেরে পুলিশের বেষ্টনীতে বরগুনা ও বরিশালে সমাবেশ করেছে বিএনপি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 3 =