সিরিয়ার আফরিন এলাকায় দামেস্ক সরকারের অনুগত যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী। কুর্দি অধ্যুষিত আফরিন শহরে মঙ্গলবার এসব যোদ্ধা প্রবেশ করেছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারপন্থী যোদ্ধা ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স বা এনডিএফ’র অবস্থানে তুরস্কের সেনারা কামান ও মর্টারের গোলাবর্ষণ করে। মঙ্গলবার আফরিন শহরে শত শত দামেস্কপন্থী যোদ্ধা ঢুকেছে।

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু বলেছে, তুরস্কের সেনারা সিরিয়ার যোদ্ধাদের সতর্ক করে গোলাবর্ষণ করে। এরপর এসব যোদ্ধা ১০ কিলোমিটার পিছু হটে যায় বলে আনাদোলু দাবি করে।

সিরিয়ার সরকারপন্থী যোদ্ধাদের ওপর তুর্কি বাহিনী গোলাবর্ষণের ঘটনার পর উত্তেজনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আফরিনে কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি’র বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা চলে আসছিল।

আফরিন শহরে তুর্কি অভিযানকে সিরিয়া অবৈধ বলে অভিহিত করেছে। মঙ্গলবার ওয়াইপিজি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সিরিয়া সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছে। সিরিয়া সরকার মনে করছে, দেশের জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব তার এবং কুর্দিদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকার সেখানে যোদ্ধা পাঠিয়েছে। এসব যোদ্ধা সীমান্তে অবস্থান নেবে এবং সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে।

২০১২ সাল থেকে এলাকাটি কুর্দি গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপর এই প্রথম সিরিয়ার সরকার সেখানে নিজস্ব বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন সেনারাও হামলার শিকার হবে: তুরস্কের হুঁশিয়ারি
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফরিন এলাকায় চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনারা যদি বাধা দেয় কিংবা কুর্দি গেরিলাদের হয়ে লড়াই করতে আসে তাহলে তারাও হামলার শিকার হবে। তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ রোববার সিএনএন টেলিভিশনের তুর্ক বিভাগকে একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন সেনারা যদি কুর্দি পিপল’স প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি-কে সাহায্য করে কিংবা মার্কিন সেনারা কুর্দি গেরিলাদের পোষাক পরে যুদ্ধে নামে তাহলে তারাও হামলা থেকে রেহাই পাবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা মার্কিন সেনাদেরকে সন্ত্রাসী বলেই বিবেচনা করব।’

আরও পড়ুনঃ   গুয়েতেমালায় একটি আখ ক্ষেত থেকে দুই সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার

বাকির বোজদাগ বলেন, ‘তুরস্কের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে মার্কিনিরা সচেতন বলে আমরা মনে করি। তারপরও যদি তারা কুর্দি পোষাক পরে তুর্কি সেনাদের ওপর হামলা চালায় তাহলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ থাকবে না।’

বাকির বোজদাগ বলেন, মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তুরস্ক কোথাও সংঘাত চায় না।

শনিবার সিরিয়ার চলমান অভিযানের সময় তুরস্কের সাত সেনা নিহত হওয়ার পর তিনি এসব কথা বললেন। তুর্কি গণমাধ্যম বলছে, একটি ট্যাংকে কুর্দি গেরিলাদের হামলায় এসব সেনা নিহত হয়েছে এবং ওই ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়েছে আমেরিকা।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × one =