সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালান বারসেট তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ এখানে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সৃষ্ট সংকটের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি এই সফরে এসেছেন।
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এবং সিনিয়র মন্ত্রীবৃন্দ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ২১ বার গান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানানো হয়।
সুইস এয়ার ফোর্সের একটি বিশেষ বিমান থেকে তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি নেমে এলে দু’টি শিশু বারসেটকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়। বিমানটি দুপুর ১টা ১২ মিনিটে বিমান বন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, কূটনৈতিক কোরের ডিন, তিনবাহিনী প্রধানগণ এবং পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সুইস প্রেসিডেন্টকে অস্থায়ী মঞ্চে নিয়ে যান। সেখানে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এরপর আর্মি, নেভি ও বিমানবাহিনীর একটি যৌথ কন্টিনজেন্ট সুইস প্রেসিডেন্টকে অভিবাদন জানায়।
বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা শেষে তিনি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের উদ্দেশে বিমান বন্দর ত্যাগ করেন। সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন।
কোন সুইস প্রেসিডেন্টের ১৯৭২ সালের ১৩ মার্চের পরে এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠাই এই সফরের লক্ষ্য। এরআগে, সুইস দূতাবাস এক বিৃবতিতে একথা জানায়।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের মধ্যদিয়ে বারসেটের আনুষ্ঠানিক সফর কার্যক্রম শুরু হবে। বারসেট ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামীকাল সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
সফরকালে বারসেট আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরআগে বিকেল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে।
বৈঠকে দুই দেশ বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।’
মঙ্গলবার বারসেট কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত আগস্ট থেকে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। সুইজারল্যান্ড বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের এই নাগরিকদের মানবিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সফরকালে সুইস প্রেসিডেন্ট সুশীল সমাজের সদস্য, বাংলাদেশে সুইস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শন করবেন। এই আর্ট সামিটে সুইস আর্ট কাউন্সিল প্রো হেলভেসিয়া অন্যতম অংশীদার।
সুইস প্রেসিডেন্ট তিনদিনের সফর শেষে বুধবার ঢাকা ত্যাগ করবেন।

আরও পড়ুনঃ   বিএনপির প্রশ্ন: চুক্তির পরেও রোহিঙ্গা আসছে কেন?

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × two =